মানবতার ফেরিওয়ালা নওমুসলিম মুহাম্মাদ রাজ

ইমান২৪.কম: ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী। পরিবারও ছিলো সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবার।ব্রাহ্মণ হিসেবে দায়িত্বও পেয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহ যদি কাউকে ভালোবাসেন তাকে মুহুর্তেই নিজের করে নেন।

পারিবারিক যশ-খ্যাতি, বিশাল অর্থসম্পত্তি আর তেত্রিশ কোটি দেবতার মায়া ত্যাগ করে সুমহান আল্লাহকে রব মেনে চলে আসেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে।আর তারপর থেকে মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে চষে বেড়াচ্ছে সমগ্র বাংলা।

উত্তরবঙ্গে বন্যা হয়েছে! মুহাম্মাদ রাজের ঘুম নাই। নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন তাদের কাছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও প্রকৃত হকদার খুঁজে খুঁজে পৌঁছে দিচ্ছেন ভালোবাসা।

দক্ষিণবঙ্গে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড়। মানুষের ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে গেছে। সেখানেও দেখি হাজির মুহাম্মাদ রাজ। কার ঘরে টিন নাই, কার গরু-ছাগল ভেসে গেছে খবর নিচ্ছেন তিনি। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিজেকে সবটুকু উজাড় করে দেন।

সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত সম্প্রদায় হিজড়া। কেউ তাদের খোঁজ নেয় না।লকডাউনে তাদের জন্য শুরু করলেন এক ব্যতিক্রমী প্রোগ্রাম হিজড়াদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিলেন খাদ্য সামগ্রী। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে এবং দেশের কয়েকটি জেলায় হিজড়াদের জন্য তিনি ব্যবস্থা করেছেন দ্বীনি ইলম শিক্ষার।

নিম্নবিত্ত কোনো আলেমে দ্বীন। বাড়িতে পানির ব্যবস্থা নেই। পর্দানশীল স্ত্রী ও মেয়ে সংসারের কাজের পানি আনতে, গোসল করতে প্রতিনিয়ত যেতে হয় অন্যের বাড়িতে। মুহাম্মাদ রাজের কাছে খবর গেল। ছুটে গেলেন সেখানে।মুহূর্তেই ব্যবস্থা করে দিলেন পাকা করা গভীর টিউবওয়েল।

অসহায় নওমুসলিম ভাইয়েরা স্বজাতির কাছে অবহেলিত অপমানিত অপদস্থ। মসজিদে মসজিদে সাহায্য চেয়েই তাদের দিন কাল অতিবাহিত হয়। মুহাম্মাদ রাজের হৃদয় দুঃখ। তিনি মেনে নিতে পারেন না। তার স্বপ্ন নওমুসলিমদের একটি বড় পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরি করা এবং তার জন্য তিনি কাজও শুরু করেছেন আলহামদুলিল্লাহ। কোথায় কোন নওমুসলিম অত্যাচারিত অসহায় সাহায্য ছাড়া চলতে পারেন না সমাজের মানুষ তাদেরকে বাঁকা চোখে দেখে ছুটে যান সেখানে। তাদের হাতে তুলে দেন অর্থ ও খাদ্য সহায়তা।

লকডাউনে কত আলেম, আলেমা অসহায় হয়ে পড়েছে।হাত খালি।খেদমত নাই।সংসার চলেনা। মুহাম্মাদ রাজের শুধু খবর পেলেই হয়েছে।তার কোনো ব্যবস্থা করার আগে যেন স্থির হতে পারেন না। এই লকডাউনে প্রায় প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে তিনি ২০০-১২০০ জন মানুষের জন্য রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন।কোনোদিন তেহারি,কোনোদিন ডিমের কোরমা পোলাও।

অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, ফয়সাল বিন হুসাইন, মাওলানা ইবরাহিম খলিল সহ অসংখ্যবার খাদ্য,বস্ত্র,অর্থ সহায়তা নিয়ে ছুটে গিয়েছেন টেকনাফ। প্রতি শীতে শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করেন কম্বল। এছাড়া বর্তমানে এক দ্বীনি ভাইয়ের অর্থায়নে প্রায় ৬০ জন এতিমের হাফেজ হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় ব্যয়ভারের দায়িত্ব নিয়েছেন। কিছু এনজিওগুলোর অপতৎপরতার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়ে ইসলাম প্রচারে জোরদার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শায়েখ যুবাইর সাহেব হাফিঃ তত্ত্বাবধানে ।

মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় সমাজের তৃতীয় লিঙ্গ যাদের আমরা হিজড়া হিসেবে চিনি তাদের মাঝে প্রাথমিক ও দ্বীনি শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

মোটকথা মুহাম্মাদ রাজের অসহায়ের ভরসার স্থল। আমাদের জানামতে আল্লাহর রহমতে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলে মুহাম্মাদ রাজের কাছ থেকে কোন ধরনের সহায়তা পায়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি বিলাতে থাকেন নিম্নবিত্তদের মাঝে।

অন্যের কথা ভাবতে ভাবতে নিজের পরিবারের খোঁজ নিতেও হিমশিম খেতে হয়। কখনো তার দেড় বছরের বাচ্চা আদিবা মানবতার ফেরিওয়ালা বাবার আদর থেকে বঞ্চিত।কখনো দ্বীনদার স্ত্রী স্বামীর সাহচার্য থেকে বঞ্চিত।তবুও তারা খুশী যে এই মানুষটা শুধু আল্লাহকে রাজী খুশী করার জন্য মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া চষে বেড়াচ্ছেন।

মুহাম্মাদ রাজের এতদূর আসার পেছনে কারো অবদান আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে মুহাম্মাদ রাজের বলেন,”আমি কৃতজ্ঞতা জানাই মুফতী যুবায়ের আহমেদ সাহেব দাঃবাঃ মাওলানা হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম সাহেব, মাওলানা ইবরাহিম খলিল, ফয়সাল বিন হুসাইন সহ অনেককেই। যাদের পরামর্শ, সাহায্য ও দোয়া ছাড়া কোন ভাবেই আমি এগোতে পারতাম না।” আল্লাহ মুহাম্মাদ রাজের সকল খেদমত কবুল করুন।আমীন।

এই নওমুসলিম ভাইকে ফেইসবুকে পেতে ও তার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে বাংলায় “নওমুসলিম মুহাম্মাদ রাজ” লিখে স্বার্চ করলেই পেয়ে যাবেন।

ফেসবুকে লাইক দিন