মাইকে ঘোষণা দিয়ে ঘুষ চাইলেন আ.লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী!

ইমান২৪.কম: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনীত আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাজামিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য মাইকে ঘোষণা দিয়ে টাকা চাচ্ছেন।

তিনি বলছেন, আমি একটা প্রস্তাব করছি। হেড মাস্টার পদে সাড়ে তিন লাখ টাকা, মৌলবি পদে সাড়ে তিন লাখ, সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক পদে সাড়ে তিন লাখ, অ্যাসিস্ট্যান্ট লাইব্রেরিয়ান পদে সাড়ে তিন লাখ এবং আরও একটি পদে (কথা অস্পষ্ট) তিন লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ১৭ লাখ টাকা দিতে হবে। সবশেষে তিনি ১৫ লাখ টাকার কম হবে না বলে জানান।

ভিডিওটি শেয়ার করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান খান। তিনি লিখেছেন, ‘যে লোক শিক্ষক নিয়োগে মাইকিং করে নিলাম ডেকে ঘুষ নির্ধারণ করে সে যদি হয় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী তাইলে কেমন হবে বলুন তো?

সরকার যখন একদিকে শিক্ষার মান উন্নয়নে জোর দিচ্ছে, সেখানে টাকার বিনিময়ে যেন তেন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার মান কিভাবে ঠিক হবে? এই কারণেই তো আজ শিক্ষার এই বেহাল দশা চারিদিকে। এই রকম দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ করে জনগণের কাছে কি মেসেজ দেওয়া হচ্ছে? অনুরোধ রইলো সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার।’

সূত্র: ইসলাম টাইমস

আরও পড়ুন:  পাক-ভারত সীমান্তে গোলাগুলি : মর্টার শেল ও ভারী গোলাবর্ষণ

চুপ করে বসে থাকবো না, পাল্টা হামলা চালাব: ইমরান খান

যেভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত চকবাজারে, দেখুন সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে

৫০টি পারমাণবিক বোমা একসঙ্গে মারতে হবে: পারভেজ মোশাররফ

ভারতে বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩ শতাধিক গাড়ি পুড়ে ছাই

যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতকে উপযুক্ত জবাব দেবে পাক সেনাবাহিনী: জেনারেল আসিফ গফুর

বছরের শুরুতেই পাওনার চেয়ে কম পরিমাণ পানি দিয়েছে ভারত

বছরের শুরুতেই পাওনার চেয়ে কম পরিমাণ পানি দিয়েছে ভারত
বছরের শুরুতেই পাওনার চেয়ে কম পরিমাণ পানি দিয়েছে ভারত

ইমান২৪.কম: ফারাক্কা ব্যারাজ দিয়ে বরাবরের মতো এবারও প্রথম শুকনো মওসুমের শুরুতে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশকে পাওনার চেয়ে কম পরিমাণ পানি দিয়েছে ভারত। যৌথ নদী কমিশনের হিসাবমতে, ইন্ডিকেটিভ সিডিউল অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশকে গড় প্রবাহের চেয়ে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম দশ দিন পর্যন্ত মোট চারটি কিস্তিতে ৪৮,৩৫৯ কিউসেক পানি কম দেয়া হয়। এ সময়ে বাংলাদেশ পাওয়ার কথা ২,২১,৬৬৬ কিউসেক পানি। কিন্তু পেয়েছে ১,৭৩,৬০৪ কিউসেক পানি।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গা চুক্তি সম্পাদিত হয়। সেইমতে প্রতিবছর জানুয়ারি ১ তারিখ থেকে দু’দেশের পানিবণ্টন কার্যক্রম শুরু হয় যা মে মাস পর্যন্ত চলে। তার ধারাবাহিকতায় এবারের পানিবণ্টন কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে। চুক্তির আওতায় এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত যৌথ নদী কমিশন কর্তৃক বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টনসম্পর্কিত পাওয়া তথ্য উপাত্তে দেখা গেছে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি প্রথম দশ দিন পর্যন্ত চারটি কিস্তির প্রতিটিতে বাংলাদেশ পানি কম পেয়েছে ইন্ডিকেটিভ সিডিউল অনুযায়ী।

এ হিসাবে এ পর্যন্ত চারটি কিস্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ৪৮,৩৫৯ কিউসেক পানি কম পেয়েছে। এবারে চলতি মাসের ১ থেকে ১০দিনে চুক্তির ইন্ডিকেটিভ সিডিউল অনুযায়ী বাংলাদেশ ফারাক্কা পয়েন্টে পাওয়ার কথা রয়েছে ৬৭,৫১৬ কিউসেক পানি কিন্তু বাংলাদেশ পেয়েছে ৬১,০২৪ কিউসেক। হিসাব মতে, এই দশ দিনে ভারত ৬,৪৯২ কিউসেক পানি কম দিয়েছে বাংলাদেশকে। তবে দেশটি চুক্তির সংলগ্নি-১ এর বণ্টন ফর্মুলা মেনে এ পরিমাণ পানি দেয়। অপর দিকে, দ্বিতীয় দশ দিনে পানি আরো কমেছে। জানুয়ারির দ্বিতীয় দশ দিনে বাংলাদেশ পাওয়ার কথা ছিল ৫৭,৬৭৩ কিউসেক পানি।

কিন্তু বাংলাদেশ এই দশ দিনে আরো বেশি পানি কম পেয়েছে। এই দশ দিনে বাংলাদেশ ১৫,০৯৩ কিউসেক পানি কম পেয়েছে। তবে চুক্তির সংলগ্ন-১ এর বণ্টন ফর্মুলা অনুযায়ী বাংলাদেশ পেয়েছে ৪২,৫৮০ কিউসেক পানি। অপর দিকে, জানুয়ারির শেষ দশ দিনে অর্থ্যাৎ ২১ থেকে ৩০ পর্যন্ত এই দশ দিনে পাওয়ার কথা ছিল ৫০,১৫৪ কিউসেক পানি, কিন্তু পেয়েছে ৩৫,০০০ কিউসেক। এই সময়ে প্রায় ১৫,১৫৪ কিউসেক পানি কম দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ফেব্রুয়ারির প্রথম দশ দিনে বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিল ৪৬,৩২৩ কিউসেক পানি। বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৫,০০০ কিউসেক। এতে করে বাংলাদেশ কম পেয়েছে ১১,৩২৩ কিউসেক পানি। ফারাক্কা পয়েন্টে পানি না থাকায় বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ বাড়তে পারছে না। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের নদ-নদীগুলো।

পদ্মার বুকে চরের পর চর পড়ে চলেছে। গত অর্ধশতাব্দীতে বাংলাদেশের অন্তত ৬শ’ নদ-নদী প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে শুকনো মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো অনেকটা মরুভূমিতে পরিণত হয়। আবার বর্ষায় ফারাক্কার সব গেট খুলে দিলে হঠাৎ ফুঁসে উঠে পদ্মা। ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাড়িঘর, ফসলসহ সবকিছু।

আরও পড়ুন: বন্ধ হচ্ছে গাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস!

স্কুল-কলেজের ছাত্রদের চুলে রঙ ও বিশেষ ছাঁটে নিষেধাজ্ঞা


ফেসবুকে লাইক দিন