মহাকাশে যেভাবে নামাজ আদায় করলেন ১১ জন মুসলিম নভোচারী!

ইমান টোয়েন্টিফোর ডটকম:হিজা মানসুরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন মুসলিম নভোচারী। তিনি ছাড়া এর আগে আরো দশজন মুসলিম নভোচারী মহাকাশ ভ্রমণে গিয়েছেন। আরব নভোচারী হিসেবে হিজা মানসুরির অবস্থান তৃতীয়তম। তার আগে আমির সুলতান ইবনে সালমান (১৯৮৫) এবং আস সুরি মুহাম্মাদ ফারিস (১৯৮৭)-এই দুই আরব মহাকাশ ভ্রমণ করার গৌরব অর্জন করেন।

তবে তাদের নভোচারী হওয়ার বিষয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যায় যে, তারা যখন মহাকাশ ভ্রমণে ছিলেন, তখন তারা কিভাবে নামাজ-রোজা আদায় করেছেন; অথচ, ওই সময় তারা পৃথিবী থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে অবস্থান করছিলেন!

মহাকাশ ভ্রমণ, চাঁদের দেশে অবতরণ কিংবা অন্যকোন গ্রহে পাড়ি জমালে নামাজ-রোজা কিভাবে আদায় করতে হবে,সে বিষয়ে এ পর্যন্ত একাধিক ফতোয়া এসেছে। দারুল ইফতা-মিসরের ফতোয়ায় বলা হয়েছে, এটা নিশ্চিত যে, নভোচারী যখন মহাকাশ গমন করে, তখন সে কিবলার দিক হারিয়ে ফেলে।

আর একথাও সুস্থির, দুনিয়ার যেখানেই মানুষ অবস্থান করুক নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কিবলার দিক নির্ধারণ করা শর্ত। অর্থাৎ, মানুষ যেখানেই থাকুক তার থেকে ফরজ বিধান কখনো রহিত হয়না। সৌদি আরবের মেজর সুলতান বিন সালমানের নামাজের বিষয়ে ফতোয়া জারি করার সময় কয়েক ডজন আলেম মালয়েশিয়ায় একটি জরুরি বৈঠক করেছেন,

সেটির উপর ভিত্তি করে দুবাইয়ের ইসলামিক বিষয়ক অধিদফতর ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত মহাকাশ যাত্রীদের অবহিত করেছেন। কিভাবে তারা সেখানে নামাজ আদায় করবেন। কিভাবে তারা সেখানে নামাজ আদায় করবেন।

তাদের ১১ জন। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন এর নভোচারীদের জন্য নামাজ ও রোজার সময় নির্ধারণ করতে গিয়ে তারা জানান, মহাকাশে প্রতি ঘন্টায় ৪০০ কিলোমিটার উচ্চতায় ২৪,০০০ হাজার কিলোমিটার বেগ বেগে সূর্য প্রদক্ষিণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়,

নভোচারীরা আমাদের ২৪ দিনের সময়ে ১৬ ঘন্টা সূর্যোদয় ১৬ বার সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন। মুসলিম নভোচারীরা সে হিসেবে প্রতি ৯০ মিনিটে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে। কারণ পৃথিবী থেকে মহাকাশের গতি ২৪,০০০ হাজার কিলোমিটার বেশি।

সে হিসেব অনুযায়ী এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন ত্রিশ মিনিট অন্তরঅন্তর। আমাদের ২৪ ঘন্টার সমান সমান মহাকাশের সময়ে ৮০ ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়। রোজা রাখারা ক্ষেত্রে প্রতি ৪৫ মিনিটের একটি রোজা রাখার কথা বলা হয়।

মহাকাশে কিবলা নির্ধারণ যেভাবে করা হয়
এতক্ষণ যতো নিয়ম কানুন আলোচনা করা হলো সেগুলো সব পৃথিবীতে থেকে। যদি কোনো মহাকাশচারী মহাকাশে থাকা অবস্থায় নামাজ আদায় করতে চান, তাহলে তিনি কীভাবে তা করবেন?

এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তের জন্য ২০০৬ সালে মালয়শিয়ান ন্যাশনাল স্পেস এজেন্সি একটি কনফারেন্সের আয়োজন করে বিজ্ঞানী ও আলেমদের নিয়ে। এই কনফেরেন্সে সিদ্ধান্ত হয় মহাকাশচারী তার ক্ষমতা অনুযায়ী কিবলা নির্ধারণ করবে। এই ব্যাপারে আরো একটা মত আছে, সেটা হল মহাকাশচারী পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকলেই হবে।

সূত্র: আদদুনিয়া, আল কুদস, আল-আরাবি

ফেসবুকে লাইক দিন