মসজিদে বিস্ফোরণ: ঘুষের টাকা না পেয়ে তিতাসের গাফিলতি

ইমান২৪.কম: নারায়ণগঞ্জ শহরের তল্লা এলাকার মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের গাফিলতির কারণেই হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।

তল্লা বায়তুল সালা জামে মসজিদ কমিটির অভিযোগ, ৯ মাস আগেই গ্যাস লাইন লিকেজ মেরামতের জন্য লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছিলো। কিন্তু ৫০ হাজার টাকার জন্য কাজ করেনি তিতাস।

সেই লাইনের লিকেজ থেকেই গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয় নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বাইতুল সালাহ জামে মসজিদটি। শুক্রবার রাতে এশার নামাজের সময় বিকট শব্দে মসজিদের পর পর ছয়টি এসিই বিস্ফোরিত হয়।

মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। দগ্ধ হন মসজিদের অর্ধ শতাধিক মুসল্লি। বিস্ফোরণে মসজিদের সবগুলো জানালার কাচ উড়ে যায়। দগ্ধ মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বাইরে ছুটে এসে রাস্তায় জমে থাকা পানিতে গড়াগড়ি খেতে শুরু করে।

শনিবার সকালে সেই মসজিদটি পরিদর্শনে যান তিতাসের এমডি, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। সেখানেই মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর মেম্বার দাবি করেন, ‘গ্যাস লিকেজের লাইন ঠিক করতে ৯ মাস আগে তিতাসকে জানানো হলেও ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ার কারণে কাজ হয়নি।’

আব্দুল গফুর মেম্বার বলেন, ‘যখন থেকেই গ্যাস লাইন লিকেজ হতে থাকে এটি মেরামত করার জন্য আমরা সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু তিতাসকে জানিয়েছি। তখন তারা আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিলো, আমরা টাকাটা জোগাড় করতে পারিনি। এ কারণে আর মেরামত করা হয়নি।’

পরে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। যদি কেউ গাফিলতি করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে, গ্যাস লিকেজ ধরেই তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব নূর হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা আলামত সংগ্রহ করছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি।

গ্যাস লিকেজ এবং বিদ্যুৎ এর বিষয় মাথায় রেখেই আমরা তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি।’ ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে তারা।

ফেসবুকে লাইক দিন