মসজিদে বিস্ফোরণের দায় কাউকে না কাউকে নিতেই হবে: হাইকোর্ট

ইমান২৪.কম: মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। শুনানিতে আদালত বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় এতগুলো মানুষ মারা গেল, এর দায় কাউকে না কাউকে নিতেই হবে।

দায় এড়ানো যাবে না। মঙ্গলবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। তার সঙ্গে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মার ইয়াম খন্দকার। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. নুর-উস-সাদিক।

তৈমুর আলম খন্দকার শুনানির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত রাষ্ট্রপক্ষ এবং আমাদের শুনানি গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানির এক পর্যায়ে আদালত বলেন, নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় এতগুলো মানুষ মারা গেল, এর দায় কাউকে না কাউকে তো নিতেই হবে। এখানে দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, শুনানিতে আমরা সংবিধানের ৩২ ধারা তুলে ধরে বলেছি, মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, এখানে দেখা গেছে গ্যাসের লিকেজ থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার আগে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়।

তারা মেরামতের জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। আইনজীবী বলেন, ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি যদি মিথ্যাও হয়ে থাকে তারপরও এটা মেরামতের দায়িত্ব তো তিতাসের। তিনি বলেন, যারা নিহত ও আহত হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদালতের নির্দেশনা চেয়েছি। আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছেন। শুনানিতে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. নুর-উস-সাদিক বলেন, নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন।

এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও বলা যাচ্ছে না কারা এ ঘটনার জন্য দায়ী। তিনি বলেন, তদন্তে যদি আসে যে মসজিদ কমিটির গাফিলতি ছিল, তাহলেতো এই রুলের কার্যকারিতা থাকবে না। সর্বশেষ অবস্থা জানাতে আমাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার সময় দেন। আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য রেখেছেন।

ফেসবুকে লাইক দিন