মসজিদে চাঁদা বাকি থাকায় কবরস্থানে মরদেহ দাফন করতে সভাপতির বাধা

ইমান২৪.কম: মসজিদের পাঁচ মাসের মাসিক চাঁদা বকেয়া থাকায় সামাজিক কবরস্থানে লাশ দাফন করতে দেয়নি মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ আক্কাস আলী (৩৫)। এমন কি মৃত ব্যক্তির লাশ বহন করতে মসজিদের খাটিয়া নেয়া হলে তা কেড়ে নিয়ে আসেন। পরে নিরুপায় হয়ে মৃতের পরিবার রাস্তার পাশে অন্যের জায়গায় জন্ডিস আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি মোঃ ইরফান উদ্দিনের (৩০) লাশ দাফন করেন। এমনকি মসজিদের ইমামকেও মৃতের জানাযা নামাজের ইমামতি করতে বাঁধা দেয়া হয় এবং মৃত ব্যক্তির নামে মসজিদের মাইকে মাইকিং পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি।

বলছিলাম বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইয়াংছা বদুরঝিরি এলাকার একটি ঘটনা। বদুরঝিরি এলাকার মসজিদের সভাপতি মোঃ আক্কাস আলী এই অমানুষিক কাজটি করে। সে বদুরঝিরি এলাকার নুরুল আলমের ছেলে। বুধবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টায় এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকা সহ আশপাশের এলাকায় নিন্দার ঝড় ওঠে। স্থানীয়রা অনতিবিলম্বে মোঃ আক্কাস আলীকে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করেন।

জানা যায়, বদুরঝিরি এলাকার মোঃ আকবর এর ছেলে মোঃ ইরফান উদ্দিন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী চকরিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে তার স্বাস্থ্যের অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে মঙ্গলবার দিনগত রাত ৯টায় তার মৃত্যু হয়। পরে মৃতের পরিবার রাতেই তার লাশ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

ইরফান উদ্দিনের শশুড় কবির আহাম্মদ বলেন, খাটিয়া নেয়া ও সামাজিক কবরস্থানে লাশ দাফনের অনুমতি নিতে আমরা কয়েকজন রাত ১টায় মসজিদের সভাপতি মোঃ আক্কাস আলীর বাড়িতে যাই। অনেক ডাকাডাকি করলেও তিনি ঘুম থেকে উঠেনি। আমরা রাতেই লাশের গোসল ও লাশ বহনের জন্য বদুরঝিরি মসজিদের লাশবাহী খাটিয়াটি ইমামের অনুমতিতে নিয়ে আসি।

বুধবার (৭ জুলাই) সকালে আক্কাস আলী বাড়িতে লোক পাঠিয়ে খাটিয়াটি নিয়ে যায় এবং বলে দেয় সামাজিক কবরস্থানে ইরফান উদ্দিনের লাশ দাফন করা যাবে না। কারণ তার মসজিদের চাঁদা বকেয়া আছে। পরে ইয়াংছা জামে মসজিদের খাটিয়া এনে লাশ বহন করে নিয়ে রাস্তার পাশে অন্যের পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করি।

এ বিষয়ে বদুরঝিরি মসজিদের সভাপতি আক্কাস আলী জানান, দুই বছর আগে ইরফান ও তার শশুরকে সমাজ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তারা সমাজের কোন ধরনের চাঁদা দেয়নি। এই কারনে আক্কাস আলীকে সমাজের কবরস্থানে দাফন করতে দেয়নি। তবে তার বক্তব্য সত্য নয় বলে জানায় মসজিদের অন্যান্য মুসল্লীরা।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ইরফান উদ্দিন খুব ভালো ও ভদ্র ছেলে ছিল। তার থেকে চাঁদা এত পাবেনা। আর যদিও মসজিদের চাঁদা বকেয়া থাকে সেইটা পরে দেখা যেত। আগে লাশ দাফন করতে দেয়া দরকার ছিল। সমাজের সকল জনগণ এমন ঘটনাকে নিন্দা জানিয়েছেন।

ফেসবুকে লাইক দিন