মরদেহগুলো দেখে আঁতকে উঠেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা!

ইমান২৪.কম: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। লাশগুলো উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্মণ জানান, ৫২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার পর হাসপাতালে পাঠানো আহতদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ভেতরে আরো মরাদেহ আছে কিনা তা খোঁজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। দীর্ঘ সময়ে আগুনে পুড়ে নিহতদের দেহের শুধুমাত্র হাড় ও কংকাল ছাড়া বাকি সব পুড়ে গেছে। মরদেহগুলোর ছিল শুধু হাড়।

মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে আঁতকে উঠেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। অনেকে কেঁদেছেন এ মরদেহ দেখে। তবে কারখানার ভেতর থেকেই মরদেহগুলো ব্যাগে করে বের করা হয়। বাইরেও কাউকে দেখতে দেয়া হয়নি মরদেহের এ চিত্র।

দেবাশীষ বর্মণ জানান, রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাশেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ’র সেজান জুস কারখানা ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় উদ্ধারকাজ শুরু হবে। তালাবদ্ধ থাকায় চতুর্থ তলার কোনো শ্রমিক বের হতে পারেননি। যে কারণে সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে দুপুরে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, ‘চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আমরা ৪৯ জনের মৃতদেহ পাঠিয়েছি। আমরা চতুর্থ তলা পর্যন্ত যেতে পেরেছি। উপরের দুই ফ্লোরে এখনও আগুন জ্বলছে। আমাদের কাজ শেষ হয়নি। চূড়ান্ত সংখ্যা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত বলেন, ‘অনেক লাশ শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই। সেগুলো ঢাকা মেডিকেলের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বলা হবে।’ এদিকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের ঘোষণা করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

ফেসবুকে লাইক দিন