মধ্যপ্রাচ্যে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় সৌদি আরবের কালো হাত

ইমান২৪.কম: মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের ফেতনা ও নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে একদিকে যেমন এ অঞ্চলে ওই দেশটির অবস্থান ও ভাবমর্যাদা দুর্বল হয়ে পড়ছে অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে দখলদার ইসরাইল।

মধ্যপ্রাচ্যে ফেতনা ও গোলযোগ সৃষ্টিতে সৌদি আরবের ভূমিকাকে কয়েকটি দিক থেকে মূল্যায়ন করা যায়। প্রথমত, দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে এতোদিন ধরে যে গোপন সম্পর্ক বজায় ছিল সৌদি আরব সেই সম্পর্ককে এখন প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

সৌদি কর্মকর্তারা এটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এখন আর তাদের অনুকূলে নেই। অর্থাৎ নানা ক্ষেত্রে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় তারা হয় পরাজিত অথবা পিছিয়ে আছে। এ কারণে তাদের ধারণা ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতা বিস্তারের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত মার্চে ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে দখলদার ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি শান্তি আলোচনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য ফিলিস্তিনকে দায়ী করেন।

ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের এই ঘনিষ্ঠতা শুধু যে ফিলিস্তিনিদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালাতে ইসরাইলকে উৎসাহিত করছে তাই নয় একইসঙ্গে ইসরাইল ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ফেতনা ও গোলযোগ সৃষ্টিতে সৌদি আরবের চেষ্টার আরেকটি দিক হচ্ছে, এ অঞ্চলে প্রক্সিযুদ্ধ চালানো যার পেছনে আমেরিকার সমর্থন রয়েছে। তারা জানে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা যদি সরাসরি কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হয় তাহলে তা ওয়াশিংটনের জন্য বহু দিক থেকে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এ ধরণের প্রক্সিযুদ্ধে আমেরিকার সুবিধা হচ্ছে এতে করে আমেরিকাকে যেমন যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে না তেমনি তাদের স্বার্থও রক্ষা পাচ্ছে।

এ ধরণের দু’টি প্রক্সিযুদ্ধের দৃষ্টান্ত হচ্ছে ইয়েমেন ও সিরিয়া যুদ্ধ যার পেছনে রয়েছে আমেরিকা ও সৌদি আরবের ভূমিকা। সিরিয়া ও ইয়েমেন যুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ হতাহত হওয়া ছাড়াও লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে এবং দেশ দু’টির বহু অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

দেখা দিয়েছে চরম নৈরাজ্য, নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলা। মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। এ পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে রয়েছে সৌদি আরবের ভূমিকা।

মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের নৈরাজ্য সৃষ্টির তৃতীয় দিকটি হচ্ছে, সরকার ও জনগণের মধ্যে মাজহাবগত বিতর্ক উস্কে দেয়া। মাজহাবগত বিতর্ক উস্কে দিয়ে ইরাকে যে ভয়াবহ যুদ্ধ ও রক্তপাত হয়ে গেল তার পেছনে ছিল সৌদি আরবের হাত।

সৌদি আরবই কুর্দিস্তান এলাকাকে ইরাক থেকে আলাদা করার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছিল যাতে ইরাক ভেঙে খান খান হয়ে যায়।

সৌদি আরব লেবাননেও গৃহযুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সচেতনতার কারণে সৌদি আরবের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

মোটকথা, এভাবে সৌদি আরব সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে। হিজবুল্লাহ মহাসচিব এ অঞ্চলে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছেন।

আরও সংবাদঃ মেয়ে-জামাতাসহ নওয়াজ শরীফের আকস্মিক কারামুক্তির পিছনে যে রহস্য

একসময় ফুটপাতে খাবার বিক্রি করতেন, এখন সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি হালিমা ইয়াকুব

ফেসবুকে লাইক দিন