মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করা মুসলমানদের জন্য হারাম : আল্লামা বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও দারুল উলুম হাটহাজারীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনাইদ বাবুনগরী আজ সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেছেন, পহেলা বৈশাখের দিন বাংলা নববর্ষ উদযাপনের নামে বিভিন্ন জীবজন্তুর মূর্তি নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করা মুসলমনাদের ঈমান-আক্বীদা বিরোধী একটি অনৈসলামিক ও বিজাতীয় সংস্কৃতি।

তিনি বলেন, নতুন বছরের প্রথম দিনে নারী পুরুষের মুখে উল্কি আঁকা, বড়বড় পুতুল, হুতোম পেঁচা, হাতি, কুমির সাপ, বিচ্ছু, ও ঘোড়াসহ বিভিন্ন জীব-জন্তুর মুখোশ পড়া, প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ একসঙ্গে অশালীন পোশাক পরে অশ্লীল ভঙ্গিতে ঢোল বাদ্যের তালে তালে নৃত্য করে র‌্যালি করার হিন্দুয়ানী যে রীতি রাষ্ট্রীয়ভাবে মুসলমানদের ওপর জোর করে চালু করা হচ্ছে, তা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম।

বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব বলেন, যারা পান্তা-ইলিশে খেয়ে একদিনে বাঙ্গলী হয় গ্রাম-বাংলার খেটে খাওয়া কৃষক, মজদুর, নিরন্ন, দরিদ্র, অসহায় মানুষের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। জাতীয় সংস্কৃতিতে কখনো ধনী-গরীব, রাজা-প্রজা পার্থক্য হতে পারেনা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, পান্তা-ইলিশ দেশের কত ভাগ মানুষ খাওয়ার সুযোগ পায়?

তিনি বলেন, আমরা গভীরভাবে লক্ষ করেছি যে, বেশ কয়েক বছর থেকে বহুবার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ভিবিন্ন জায়গায় নারীদের ওপর সংঘবদ্ধ যৌন-নির্যাতন ও সম্ভ্রমহানীর মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। যা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও চলাফেরার কুফল।

এসব অনুষ্ঠানে নারীদের নিরাপত্তাতো নেই বরং ক্ষতির আশংকাই বেশি। সে জন্যে ইসলাম বিরোধী বিজাতীয় এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য দেশের নারী সমাজের প্রতি তিনি আহবান জানান। এবং ঈমান-আক্বীদা বিরোধী হিন্দুয়ানী এসব শিরকী অপসংস্কৃতি বন্ধ করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানান।

ফেসবুকে লাইক দিন