মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণ মামলার রায়ের পরেই বিচারকের পদত্যাগ

ভারতের হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযোগে থাকা সব ব্যক্তিকে খালাস দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় মামলার বিচারক পদত্যাগ করেছেন। ওই বিচারকের নাম রাভিন্দর রেড্ডি। গতকাল সোমবার ১৬’এপ্রিল যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণের অভাবে ভারতে গেরুয়া সন্ত্রাস নামে পরিচিত অভিযুক্ত পাঁচজনকে বেকসুর খালাস দেন হায়দরাবাদের বিশেষ আদালত। এনডিটিভির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

মেট্রোপলিটন সেশনস জজের হাতে তাঁর পদত্যাগপত্র তুলে দেন। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেছেন, বিচারের সঙ্গে তাঁর পদত্যাগের সম্পর্ক নেই। তিনি অনেক দিন ধরেই পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন।

দীর্ঘ ১১ বছর আগে ২০০৭ সালের ১৮ মে হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদে শুক্রবারের নামাজ চলাকালে ওই বিস্ফোরণে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছিলেন ৫৮ জন।
সোমবারে দেওয়া রায়ে রাভিন্দর বলেন, অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হচ্ছে, কারণ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন গেরুয়াধারী সন্ন্যাসী অসীমানন্দ, যিনি একসময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সাবেক সদস্য। সন্ন্যাস গ্রহণের আগে অসীমানন্দর নাম ছিল নবকুমার সরকার।

এনআইএ অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণে ব্যর্থ হলেও ওই বোমা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ডানপন্থি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাবেক সদস্য স্বামী অসীমানন্দ।

তিনি এ বিষয়ে লিখিত স্বীকারোক্তিও দিয়েছিলেন।

হায়দ্রাবাদের স্থানীয় পুলিশের তদন্তের পর মামলাটি সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। ঘটনার তদন্তের পর সিবিআই চার্জশীট দাখিল করে।

২০১১ সালে সিবিআইয়ের কাছ থেকে মামলাটির দায়িত্বভার নিয়েছিল এনআইএ।

ওই মসজিদে হামলায় ঘটনায় আরএসএস-র ১০ সদস্য জড়িত বলে অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছিল।

স্বামী আসীমানন্দ ছাড়াও দেবেন্দ্র গুপ্ত, লোকেশ শর্মা, ভারত মোহনলাল রাতেশ্বর ওরফে ভারত ভাই এবং রাজেন্দ্র চৌধুরি বিচারের মুখোমুখি হন।

বিচার চলাকালে অভিযুক্ত অপর দুজন সন্দীপ ভি ডাঙ্গে ও রামচন্দ্র কালসানগ্রা নিখোঁজ থাকেন এবং অপর অভিযুক্ত সুনিল যোশি গুলিতে মারা যান।

বিচারে মোট ২২৬ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দেন এবং প্রায় ৪১১টি নথি প্রদর্শন করা হয়।

বিচার চলাকালে স্বামী অসীমানন্দ ও ভারত মোহনলাল রাতেশ্বর জামিনে ছিলেন এবং অপর তিন জন হায়দ্রাবাদের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।

গত বছরের মার্চে অসীমানন্দকে আজমির বিস্ফোরণের মামলা থেকেও খালাস দেওয়া হয়েছিল।

সোমবার রায়ের পর হায়দ্রাবাদের আইনপ্রণেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এটি ‘কুচক্র’।

আরও পরুনঃ দিল্লিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন: আলেমরা বলছেন ষড়যন্ত্র

কাশ্মীরে ৮ বছরের মুসলিম শিশুকে মন্দিরে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা

ফেসবুকে লাইক দিন