আমার বক্তব্য ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে: জাকির নায়েক

ইমান২৪.কম: তাঁর বক্ত ব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জাকির নাইক। তিনি বলেন, আমি মোটেও বর্ণবাদী নই। সমালোচকরা আমার বক্তব্যকে ভুলভাবে নিয়েছেন এবং তার বক্তব্যে মনগড়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু তবুও আমার কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে তার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি।

এখানে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমি কারো অনুভূতিতে আঘাত করতে চাই না। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে আঘাত করাটা কখনোই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।

এটা ইসলামের মূল শিক্ষার পরিপন্থি। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ডা. জাকির নাইক। জাকির নাইক বলেন, সারাবিশ্বে শান্তি ছড়িয়ে দেয়াই তার মূল উদ্দেশ্য।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তার নিন্দুকেরা তার এই কাজে সব সময়ই বাধা দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে তিনি মালয়েশিয়ায় বসবাসরত চীনা বংশোদ্ভূত নাগরিকদের নিয়ে মন্তব্য করেন।

একই সঙ্গে তিনি বলেন যে, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের চেয়ে মালয়েশিয়ার সংখ্যালঘু হিন্দুরা ১০০ গুণ বেশি অধিকার ভোগ করছেন। তার এমন মন্তব্য ঘিরেই মালয়েশিয়ায় বিতর্ক শুরু হয়।

জাকির নাইক দাবি করেছেন, তার বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের ঘটনা লক্ষ্য করলে দেখবেন মালয়েশিয়ায় আমার বিরুদ্ধে জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

আমার সমালোচকরা নির্দিষ্ট কিছু শব্দ ব্যবহার করে আমার ওপর আক্রমণ করছেন। তারা আমার বক্তব্যকে রং মাখিয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এসব ভুল বক্তব্যের কারণে অমুসলিমরা তাকে বর্ণবাদী মনে করবেন। তিনি আরও বলেন, যারা এসব কথায় আঘাত পেয়েছেন তারা আমার মূল বক্তব্য শোনেননি।

তিনি বলেন, এটা আমার কাছে উদ্বেগের কারণ এর ফলে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে মানুষ ইসলাম থেকে দূরে সরে যাবে।

তিনি আরও বলেন, জাতিবিদ্বেষ শয়তানের কাজ। আমি এর ঘোর বিরোধী। কুরআনেও এর বিরুদ্ধে বলা হয়েছে। ইসলামিক বক্তা হিসেবে আমি সব সময়ই এ ধরনের কাজের বিরোধী।

আরো পড়ুন>> ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের দিন ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আওয়ামী লীগ।

আজ বুধবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ২১ আগস্টের মাধ্যমে রাজনীতির যে দেয়াল তুলেছে তা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না। এসময় হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

একই সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা মহানগরসহ দলটির অন্যান্য থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের দিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ।

সেখানে খোলা ট্রাকের ওপর স্থাপিত উন্মুক্ত মঞ্চে বক্তৃতা দেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা। বক্তৃতা শেষে ৫টা ২২ মিনিট, শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন, ঠিক সেই

মুহূর্তেই অতর্কিত গ্রেনেড বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, পুরানা পল্টন ও এর আশপাশের এলাকা। চারদিক থেকে সভাস্থলে গ্রেনেড এসে পড়তে থাকে। মহূর্তের মধ্যে

সমাবেশস্থল রক্তাক্ত হয়ে পড়ে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিণত হয় মৃত্যুর জনপদে। শত শত মানুষের আর্তচিত্কার, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকা ছিন্নভিন্ন দেহ, রক্ত আর বারুদের পোড়া গন্ধে পুরো এলাকাজুড়ে বীভৎস

পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ওই সময়ে শেখ হাসিনা সেই গ্রেনেড হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি (দলের তত্কালীন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য) মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন মারা যান।

ইমান২৪/এ/আর

ফেসবুকে লাইক দিন