ভিক্ষাবৃত্তি: ইসলাম কি বলে?

ইসলামে অসহায় বিপন্ন মানুষের সহায়তা এবং অনগ্রসর মানুষের টিকে থাকার কৌশল হিসেবে দান-সাদকা ও জাকাতের বাধ্যবাধকতা করেছে সাথে সাথে কর্মসংস্থানের জন্য শ্রমের মর্যাদা দিয়ে যেমন উৎসাহিত করেছে তেমনি প্ররিশ্রম না করে ঘৃণিত পেশা ভিক্ষাবৃত্তি করতে নিরুৎসাহিত করেছে।

তবে মানবিক ও সামাজিক বোধের কারণে সরলপ্রাণ অনেকে বিশ্বাস করে ভিক্ষুকদের যত্রতত্র দান-খয়রাত করছেন বেশ। আর ভিক্ষুকদের যত্রতত্র দান করার ফলে দিন দিন ভিক্ষুকের সংখ্যা শুধু বেড়েই চলছে তা নয়। বরং ভিক্ষাবৃত্তি সিন্ডিকেট করে একশ্রেণির লোক একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এতে সমাজের ভারসম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি অমান্য হচ্ছে ইসলামের হুকুম। অভিযোগ রয়েছে, ভিক্ষুক সিন্ডিকেটের লোকেরা শিশুদের অপহরণ করে অঙ্গহানির মতো ঘটনা ঘটিয়ে তাদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করিয়ে থাকে। তাদের সৃষ্ট অগণিত লোমহর্ষক ঘটনা রয়েছে; যার বর্ণনায় গা শিউরে ওঠে এবং বিষয়টি ভয়ংকর একটা পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তাই ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তিকে কখনো প্রশ্রয় দেয়নি। বরং কঠোরভাবে নিষেধ করেছে এর থেকে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তারা মানুষের কাছে পীড়াপীড়ি করে ভিক্ষা চায় না।’ (সুরা বাকারা: ২৭৩) এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি অভাব ব্যতীত ভিক্ষা করলো; সে যেন জাহান্নামের আগুন ভক্ষণ করলো। (মুসনাদে আহমদ: ৫১) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তায়ালার কাছে বৈধ কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিচুমানের ও রাগ সৃষ্টিকারী কর্ম হলো স্ত্রীকে তালাক দেওয়া ও ভিক্ষাবৃত্তি করা। (ইবনে মাজাহ: ৪৩৬) নবীজি (সা.) আরো বলেন, ‘ভিক্ষাবৃত্তি ক্ষত স্বরূপ; এর দ্বারা ভিক্ষুক মুখম-লকে ক্ষত-বিক্ষত করে।’ (সুনানে নাসায়ি: ৯৮) অন্য হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অপ্রয়োজনে ভিক্ষা করে, সে হাতে অঙ্গার রাখার মতো ভয়াবহ কাজ করে।’ (বায়হাকি: ৬৩৪) অপর এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য কারো কাছে ভিক্ষা চায়; সে তো জাহান্নামের আগুন ভিক্ষা চায়। তার ইচ্ছা, সে চাইলে জাহান্নামের আগুন কম ভিক্ষা করতে পারে বেশিও ভিক্ষা করতে পারে।’ (সুনানে ইবনে মাজা: ৫৮৯)

ইসলাম একে অপরকে সাহয্য করার এবং বিপদে ধন-সম্পদ দান করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে সে দান-খায়রাত ভিক্ষাবৃত্তির আদলে নয়; বরং দানকারীর স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টিক্রমে হতে হবে। মহানবী (সা.) ভিক্ষাবৃত্তিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে ইরশাদ করেন, ‘উপরের হাত নিচের হাত থেকে উত্তম।’ (মুসলিম: ৩৩২) মুগিরা ইবনে শুবা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সম্পদ অপচয় ও ভিক্ষাবৃত্তি পছন্দ করেন না।’ (সহিহ বোখারি: ১৪৫৫) হজরত সাওবান (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এইমর্মে প্রতিশ্রুতি দিবে যে, সে অন্যের কাছে হাত পাতবে না। আমি তার জান্নাতের জিম্মাদারী গ্রহণ করবো।’ (সুনানে ইবনে মাজা: ৫৮৮) অতএব আসুন! আমরা ভিক্ষুকদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট হই এবং তাদেরকে কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করার প্রতি উৎসাহ দেই। ইসলামের সুমহান শিক্ষা ও আদর্শের কথা তাদের কাছে পৌঁছে দেই। যাতে সমাজ ও দেশ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি মতো ঘৃণ্য অভিশাপ দূর করা সম্ভব হয়।

ফেসবুকে লাইক দিন