মাওলানা মামুনুল হক কেনো ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির টার্গেট?

ইমান২৪.কম: হটাৎ করেই সরকারসহ ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির একক টার্গেটে পরিণত হলেন মাওলানা মা মুনুল হক। হেফাজতে ইসলামের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, এবং অন্য সকল ইসলামী আলোচকদের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও ব্যহত হচ্ছে মা মুনুল হকের প্রোগ্রাম। এর কারণ কি? হেফাজতের আপোষহীন আরও কত নেতা আছে, বিশদলীয় জোটের সাথে সম্পৃক্ত কতজন আছে। সবাইকে বাদ দিয়ে মা মুনুল হক কেনো টার্গেট হলেন, সেই কারণগুলো খোজাঁর চেষ্টা করি।

১. দীর্ঘদিন পর খোলস ছেড়ে স্বরুপে ফিরেছে হেফাজতে ইসলাম। দালালদের রাহু মুক্ত হয়েছে আমাদের প্রাণের সংগঠন বেফাক। উম্মুল মাদারিস হাটহাজারির শতবছরের ঐতিহ্য রক্ষা হয়েছে। কওমি অঙ্গনের গুরুত্ববহ এই তিনটি ক্ষেত্র দালাল মুক্তকরণের পক্ষে যারা সোচ্চার ছিলেন, মাওলানা মা মুনুল হক তাদের মধ্যে একজন। কাজেই পরাজিত শক্তির অনেক ক্ষোভ তার বিরুদ্ধে।

২. অতীতে দেখেছি অনেক শীর্ষ নেতা থাকলেও মুফতি আমিনীর হুংকার আলাদা মর্যাদা পেত।এখন দেখছি মাওলনা মামুনুল হককে। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পক্ষে, তাউহিদি জনতার পক্ষে সবচেয়ে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর এখন মাওলানা মা মুনুল হক। তার বজ্র কন্ঠে উজ্জিবিত হয় তাউহিদি জনতা, কেপে উঠে বাতিলের মসনদ।এ কারণেই ইসলাম বিদ্বেষী লেগেছে তার বিরুদ্ধে।

৩. উলামাযে কেরামের সাথে সরকার এতদিন দমন পীড়নের বদলে সমোঝনা ও ম্যানেজ করে চলেছে। আলেমদের অনেকের স্বভাবগত কৌশল ঝামেলায় না জড়িয়ে লিয়াজো করে চলা। আবার অনেকে লিয়াজো না করলেও মামলা হামলার ভয়ে নিরব। আর আলেমদের নামধারী কিছু কিট সরকারের দালালীতে লিপ্ত। কিন্তু মা মুনুল হক এই তিন তরিকার কোনোটাতেই নাই।এ জন্যই তাকে বাগে আনতে সরকার মরিয়া।

৪. ইসলামপন্থীদের শীর্ষ নেতাগণ অধিকাংশই প্রবীন। অন্যদের উপর ভর করে, সহযোগিতা নিয়ে চলতে হয়। দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া ও জেল জুলুমসহ ত্যাগ স্বীকার করা অনেকের পক্ষেই কঠিন। কিন্তু মাওলানা মামুনুল হক ব্যতিক্রম। তাকে এখনও যুবক বলা যায়। আল্লাহপাক সুস্থ সবল রাখলে তিনি আরও অনেক দিন নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এটাও তাদের দুঃশচিন্তার কারণ।

৫. তিনি শাইখুল হাদীস রহ. এর সন্তান। পারিবারিক ঐতিহ্য আছে। তিনি অযোগ্য সাহেবজাদা নন।বুখারী শরিফ পড়াচ্ছেন ২৫ বছর যাবৎ।শাইখুল হাদীস ইবনে শাইখুল হাদীস।তিনি একা নন।তার পরিবার আছে। রাজনৈতিক ব্যাকগ্রান্ড আছে। সংগঠন আছে।তিনি উচ্চশিক্ষিত। সবশ্রেণীর মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা আছে।এগুলোও তার অপরাধ।

এসব অনেকের কারণেই সরকারসহ দেশী বিদেশী গোটা ইসলামী বিদ্বেষী শক্তির টার্গেট এখন মাওলানা মামুনুল হক। তারা যে কোনো মূল্যে মাওলানা মামুনুল হকের কন্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে চায়।মাহমুদুর রহমান এর কলমকে তারা যেভাবে নিয়ন্ত্রন করেছে। নানা রকম প্রোপাগান্ডা চালিয়ে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীকে দেশছাড়া করেছে। সেভাবেই তারা মা মুনুল হকের কন্ঠকে স্তব্দ করে দিতে চায়।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও আল্লামা কাসেমীসহ আরও অনেক হেফাজত নেতাকেই সরকার প্রতিপক্ষ মনে করে কিন্তু টার্গেট করেছে একজনকে। একজনকে আঘাত করে অন্যদের শিক্ষা দিতে চায়। মামুনুল হক এতদিন যাদের পক্ষে লড়াই করেছে। তারা যদি তাকে এখন একা ছেড়ে দেয় তাহলে এর মাসুল একদিন সবাইকেই দিতে হবে।
এ জন্যই সম্মিলিত উদ্যোগে মাওলানা মা মুনুল হকের কন্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়ার এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে জেগে উঠতে হবে। রাজপথে এদের মুকাবেলার জন্য তৈরি থাকতে হবে। ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির সকল ষড়যন্ত্রের জান ছিন্ন করে আপন লক্ষ্য পানে এগিয়ে যাবেন মাওলানা মা মুনুল হক। কেউ তাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

ফেসবুকে লাইক দিন