ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক যুদ্ধে কে জিতবে?

ইমান২৪.কম: চির বৈরী প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধলে বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। এতে অন্তত ২০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে মানবসভ্যতা।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যদি সীমিত পর্যায়েও পারমাণবিক অস্ত্রের লড়াই হয় তবে, বিশ্বের আবহাওয়ামণ্ডলের ব্যাপক ক্ষতি ও শস্যক্ষেত্র ধ্বংস হবে। আর তার পরিণামে সারা পৃথিবীতে খাদ্যের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরমাণু যুদ্ধের ফলে আবহাওয়ামণ্ডলে যে কার্বন অ্যারোসল কণা ছড়াবে, তাতে সুদূর আমেরিকাতেও কমপক্ষে এক দশক সময় ধরে কৃষি উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ কমে যাবে।

এ কণার প্রভাবে চীনে প্রথম চার বছরে গড়ে ২১ শতাংশ ও পরের ছ’বছর আরও ১০ শতাংশ ধান, গমের উৎপাদন কমে যাবে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ফেলা মার্কিন পরমাণু বোমায় দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

এখন পারমাণবিক বোমা আরও শক্তিশালী, আরও ভয়ঙ্কর। সেই প্রেক্ষতে ওই গবেষণায় বলা হয়, এখন কোনও পারমাণিবক যুদ্ধ মানেই তা মানবসভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সামিল।

গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পরমাণু অস্ত্র আছে ৬ হাজার ৮শ’, রাশিয়ার ৭ হাজার, ফ্রান্সের ৩শ’, যুক্তরাজ্যের ২১৫, চীনের ২৭০, ভারতের ১৩০, পাকিস্তানের ১৪০, ইসরায়েলের ৮০, আর উত্তর কোরিয়ার আছে ২০টি ।

সব দেশই এসব তথ্যের ব্যাপারে কড়া গোপনীয়তা বজায় রাখে।

তবে যেটুকু জানা যায়, তা হলো – পৃথিবীর মাট ৯টি দেশের হাতে এখন ৯ হাজার পরমাণু বোমা আছে – যদিও স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর এ সংখ্যা আগের চেয়ে কমে গেছে।

পরমাণু বোমাগুলো অনেক ক্ষেত্রে বসানো আছে ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায়। তা ছাড়া আছে বিভিন্ন সামরিক বিমান-ঘাঁটিতে বা অস্ত্রের গুদামে।

বিভিন্ন দেশে এখন শত শত পারমাণবিক বোমা বসানো-ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা আছে। আমেরিকান ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বসানো আছে বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, এবং তুরস্কে – সব মিলিয়ে এগুলোর সংখ্যা প্রায় ১৫০।

অন্তত ১৮০০ পরমাণু বোমা আছে যেগুলো খুব স্বল্প সময়ের নোটিশে নিক্ষেপ করা যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব পরমাণু-শক্তিধর দেশই এখন তাদের অস্ত্রগুলোর আধুনিকায়ন করছে, বা করার পরিকল্পনা করছে।

এসইপিআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী দেখে নিন অস্ত্রের দিক দিয়ে বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর ভারত-পাকিস্তানের কাছে কত পারমাণবিক বোমা মজুদ আছে :

পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ১২০ থেকে ১৩০টি পরমাণু বোমা৷ সাম্প্রতিক সময়ে পরমাণু বোমার সংখ্যা বাড়িয়েছে দেশটি৷ অনেকেই আশঙ্কা করেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে দেশটির লড়াই কোনো একসময় পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে৷

ভারত প্রথম পরমাণু পরীক্ষা চালায় ১৯৭৪ সালে৷ দেশটির কাছে ১১০ থেকে ১২০টি পরমাণু বোমা রয়েছে৷ ভারত অবশ্য জানিয়েছে, তারা আগে কোনো দেশকে আঘাত করবে না। আর যেসব দেশের পরমাণু বোমা নেই, সেসব দেশের বিরুদ্ধে তারা এ ধরনের বোমা ব্যবহার করবে না৷

এদিকে, ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪৪ সেনা নিহতের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছেন, পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিতে সামরিক বাহিনীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, সামরিক বাহিনীর সে সক্ষমতা আছে তো?

বৃহস্পতিবারের ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জইশ-ই-মুহম্মাদ। এরপর থেকেই পাকিস্তানকে তুলাধুনো করছে ভারত। এমনকি দেশটিকে বিশ্ব থেকে একঘরে করতে সব ধরনের ব্যবস্থা করার হুমকি দিয়েছে নয়াদিল্লি। যদিও পাকিস্তান বলছে, ওই হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, সার্জিকাল স্ট্রাইক-এ সেনাবাহিনীর সাফল্য নিয়ে মোদি সরকার ঢাক পিটিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান ও প্রয়োজনে চীনকে একসঙ্গে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা সেনাবাহিনী বা বিমানবাহিনীর রয়েছে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে।

এর আগে উরিতে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের হামলা এবং ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর পর সেনাবাহিনীকে জরুরি ভিত্তিতে ট্যাংক-ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্র, রাইফেল, গোলাবারুদ ইত্যাদি কিনতে হয়েছিল। কিন্তু তার দাম মেটাতে গিয়ে দেখা যায়, ভাঁড়ে মা ভবানী।

২০০১ সালে সংসদে আজমাল কাসাবদের হামলার পর তৎকালীন বাজপেয়ী সরকার নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বিপুল সংখ্যায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ৫ লক্ষ জওয়ান, তিনটি ট্যাংক-সজ্জিত ডিভিশন ও তাদের সঙ্গে স্ট্রাইক কোর মোতায়েন করতে তিন মাস সময় লেগে যায়। ততো দিনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণরেখার উল্টো দিকে নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে ফেলেছে। সেই ‘অপারেশন পরাক্রম’এ ১০ মাস পর সেনা প্রত্যাহার করতে হয়।

এর পরই ‘কোল্ড স্টার্ট ডকট্রিন’ অর্থাৎ সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ রেখায় দ্রুত সেনা মোতায়েনের রণকৌশল তৈরি করে সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়ত আগেই জানিয়েছেন, সেই নীতি মেনে এখন ৮ থেকে ১০ হাজার সেনা, কামান, ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র, ঘাতক হেলিকপ্টার নিয়ে আট থেকে দশটি ‘ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপ’ বা ‘আইবিজি’ তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু তার জন্য আরও অর্থ দরকার।

সূত্র বিডি মর্নিং

আরও পড়ুন:  ‘এটাই আমার শেষ মেয়াদ’ : প্রধানমন্ত্রী

কাবা শরীফের ছাদে হাঁটলেন বিতর্কিত যুবরাজ সালমান (ভিডিও)

মোদীর বার্তায় যুদ্ধের শঙ্কা, পাকিস্তান চালাবে পারমাণবিক হামলা

ভারতের পাশে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, পাকিস্তানের পক্ষে চীন

আমার মনে হয়েছে আমি জাহান্নামে ছিলাম : চীনা বন্দিশিবির থেকে ফিরে এক নারী

সরকারের সমালোচনাকারীরা রাষ্ট্রদ্রোহী হতে পারে না: মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান

ফেসবুকে লাইক দিন