ভারতে স্ত্রীকে ফেলে শাশুড়িকে নিয়ে পালাল জামাই!

অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে।

জানা যায়, হঠাৎ করেই স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে শাশুড়িকে নিয়ে পালিয়ে যায় জামাই! জামাই যে শাশুড়ির প্রতি এমন আসক্ত হয়ে পড়েছে তা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। এদিকে, শাশুড়ি-জামাইয়ের এমন কাণ্ডে রীতিমতো হাসাহাসি শুরু হয়েছে ভারতের পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে।

স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে রেখে শাশুড়িকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় ইতোমধ্যেই নির্যাতিতার বধূর তরফ থেকে কেতুগ্রাম থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে।

৯ মে কেতুগ্রাম থানায় অনুরূপাদেবী নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পাশাপাশি তিনি তার স্বামীর বিরুদ্ধে মাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে পালানোর অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামী প্রসেনজিৎ হাজরা তার মা মঙ্গলীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে পালিয়েছে।

অনুরূপার সন্দেহ, কাজের টোপ দিয়ে কোথাও নিয়ে গিয়ে তার মাকে বিক্রি করে দিয়েছে তার স্বামী। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কিন্তু কেতুগ্রাম থানার পুলিশ জানিয়েছে দু’জনের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক অনুত্তীর্ণ অনুরুপাদেবীর বাবার নাম কৃষ্ণ বর্মন। কৃষ্ণ বর্মন পেশায় হকার। তিনি ফুচকা বিক্রি করেন। কেতুগ্রাম থানার বহরান গ্রামে অনুরুপার বাপের বাড়ি। অনুরূপার মা মঙ্গলীদেবী গৃহবধূ। অনুরুপা তাদের একমাত্র সন্তান।

অনুরুপাদেবী জানায়, কেতুগ্রামের বাসিন্দা মলিন হাজরার ছেলে প্রসেনজিতের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার প্রথম পরিচয় হয়। তারপর ২০১৬ সালে অনুরূপাদেবী পালিয়ে বিয়ে করেন প্রসেনজিৎকে। প্রথমে বাড়িতে রাজি না থাকলেও পরে পরিবারের পক্ষে থেকে মেনে নেয়।

এদিকে অনুরুপার বাবা কৃষ্ণ বর্মন বলেন, প্রসেনজিৎ মোবাইল ফোনে আমার মেয়ের কাছে আনন্দ মণ্ডল নামে ও নিজেকে ঠিকাদার হিসাবে প্রথমে পরিচয় দিয়েছিল। বিয়ের পর জানতে পারি ওদের মূল পেশা হলো শুকর পালন ও জনমজুরি। তবু মেয়ের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে জামাইকে ব্যবসায় নামিয়েছিলাম। নিজের বাড়ির কাছে ঘর তৈরি করে দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু তার আগেই আমাদের সর্বনাশ করে চলে গিয়েছে প্রসেনজিৎ।

অনুরূপা আরও বলেন, শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ১ বছরের ছেলে রণজিৎকে নিয়ে তিনি গত ৪ মে বাপের বাড়িতে আসেন। স্বামীও তার সঙ্গে ছিল। বাপের বাড়িতে আসার দু’দিন পরই এই ঘটনা ঘটে।

অনুরূপা আরও জানান, ৬ মে দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর অনুরূপাদেবী তার মা ও ছেলেকে নিয়ে শুয়েছিলেন। পাশের ঘরে শুয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। কৃষ্ণ বর্মন ব্যবসার কাজে বাইরে ছিলেন। বিকেলে ঘুম থেকে ওঠে অনুরূপা তার মা ও স্বামীকে বাড়িতে খুজে না পেয়ে বাবাকে খবর দেন। এদিকে প্রতিবেশীদেরও জানানো হয়।

সকলে মিলে বহু খোঁজাখুঁজির পরেও তাদের দু’জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

অনুরূপা জানান, আমি বাবা ও আমার সন্তান তিন জনের এখন অসহায় অবস্থা। কীভাবে বেঁচে থাকব সেটাই চিন্তার বিষয় এখন ।

আরও খবরঃ ধর্ষণ: ইসলাম কী বলে জেনে নিন..

মুহাম্মদ (সঃ) এর আর্দশে অনুপ্রাণীত হয়ে বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে কিশোরীর ইসলাম গ্রহণ

চুল-দাড়ি কেটে বাবা আমাকে পূজা করতে বাধ্য করেছিল, তবুও আমি ইসলামে অটল থেকেছি

ফেসবুকে লাইক দিন