ভারতের আসামে মাদরাসা বন্ধের আইন পাস: বন্ধ করে দেওয়া হল ৭০০ মাদরাসা

ইমান২৪.কম: ভারতের আসাম বিধানসভায় রাষ্ট্র পরিচালিত মাদরাসাগুলো বন্ধের বিল পাস করেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। বিরোধী দলের প্রতিবাদের মধ্যেই বুধবার আইনটি পাস করা হয়। এমনকি আইনটি নিয়ে বিরোধী দলের যথাযথ আলোচনার দাবি পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে নির্বাচিত কমিটি।

এখন বিলটি অনুমোদনের জন্য রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে। নতুন আইন অনুযায়ী, মাদরাসা খাতে আর কোনো সরকারি অর্থ ব্যয় করা হবে না। ২০২১ সালের ১ এপ্রিলের মধ্যে ৭০০-এর বেশি মাদরাসা বন্ধ করে সেগুলোকে সাধারণ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হবে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হিমান্তা বিশ্ব শার্মা তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

ওই বিলের আওতায় আসাম রাজ্যে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ভেঙে ফেলা হবে। তবে শিক্ষক এবং নন-টিচিং স্টাফদের ভাতা ও চাকরির শর্তে কোনো প্রভাব পরবে না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার খুব শিগগিরি বেসরকারি মাদরাসার বিষয়ে নতুন আরেকটি আইন পাস করবে। কওমি মাদরাসাগুলোতে ইসলামিক শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত ও অন্যান্য বিষয়গুলো পাঠ্যসূচিতে রাখলে কেবল সেগুলোকে পাঠদানের অনুমোদন দেয়া হবে।

অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাট ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) বিধায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, আসাম সরকার বলেছে, জনসাধারণের অর্থ আর ধর্মীয় শিক্ষায় ব্যয় করা হবে না। কিন্তু বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বৈদিক শিক্ষা ও ইসলামিক শিক্ষা দেয়া হয়ে থাকে। যা নির্বাচনের এজেন্ডার মতো দেখাচ্ছে। যোগী (আদিত্যনাথ) উত্তর প্রদেশে যা করেননি বিজেপি আসামে তা করেছে।

তিনি বিধানসভায় আরো বলেন, এখন যারা ওই আইনের বিপক্ষে আদালতে যেতে চায় আমরা তাদের সাহায্য করব। বিরোধী দল ওই আইনটির সমালোচনা করে বলেছে, হিন্দুদের দিয়ে মোদি সরকার সারাদেশে মুসলিম বিরোধী শাসন চালাচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের মসজিদগুলোতে আর ইমামের প্রয়োজন নেই। সংখ্যালঘিষ্ট মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে আমাদের প্রয়োজন পুলিশ অফিসার, ডাক্তার, শিক্ষক ও আমলা। তিনি আরো বলেন, আমরা সকল মাদরাসাগুলোকে সাধারণ স্কুলে রূপান্তরিত করব। ওই স্কুলগুলোতে আর ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হবে না।

এদিকে ভারতের বিরোধী দল বলছে, আইনটি মুসলিম বিরোধী। কংগ্রেস দলের আইনপ্রণেতা ওয়াজেদ আলী চৌধুরী বলেন, মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করতে আইনটি করা হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন