ভারতীয় ট্যাঙ্ক ঘায়েলে সক্ষম চীনা ‘ভিটি-৫ লাইট’ ট্যাঙ্কের প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে

ইমান২৪.কম: নর্থ ইন্ডাস্ট্রিজ সূত্রের খবর, ভিটি-৫ লাইট ট্যাঙ্কের চালানের প্রথম ব্যাচটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে জাহাজিকরণ করা হয় ২৩ এপ্রিল। এর মধ্য দিয়ে নিজস্ব তৈরি ভিটি-৫ লাইট ট্যাঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হলো। বাইরের বিশ্ব মনে করে যে ভিটি-৫ লাইট ট্যাঙ্ক এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌছে গেছে।

বৈদেশিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে ৪৪টি ভিটি-৫ লাইট ট্যাঙ্ক কেনার জন্য ২০১৯ সালে অর্ডার দেয়। এই ট্যাঙ্ক দিয়ে একটি লাইট ট্যাঙ্ক রেজিমেন্ট গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরো দুটি লাইট ট্যাঙ্ক রেজিমেন্ট গঠন করবে। এর মানে হলো বাংলাদেশ ১৫০টি ভিটি-৫ লাইট ট্যাঙ্ক কিনতে পারে।

নর্থ ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন যে ছবি প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কেনার ভিটি-৫ লাইট ট্যাঙ্কগুলো হাই-ইন্ড ভার্সন। কিছু কিছু কনফিগারেশন চীনের নিজস্ব টাইপ-১৫ লাইট ট্যাঙ্কের চেয়ে উন্নত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সরবরাহ করা ভিটি-৫ ট্যাঙ্কে দেখা যায় ক্যাপ্টেনের জন্য কমপ্রিহেন্সিভ সারকামফেরেনশিয়াল ভিশন সাইট গ্লাস রয়েছে।

এই সাইট গ্লাস আবার একটি ইনটিগ্রেটেড থার্মাল ইমেজিং নাইট ভিশন সিস্টেমে সজ্জিত। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরো ভালোভাবে অবহিত হতে পারবেন ক্যাপ্টেন। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে ক্যাপ্টেন গানারের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেই টার্গেটে গোলাবর্ষণ করতে পারবেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, কমান্ডারের ইনটিগ্রেটেড পেরিফেরিয়াল সাইট গ্লাস সজ্জিত ভিটি-৫ লাইট ট্যাঙ্ক দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রথম। এই অত্যাধুনিক সিস্টেম ভারতের সবচেয়ে আধুনিক টি-৯০ মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্কেও নেই। টি-৯০ ট্যাঙ্কের কমান্ডারকে অপারেশন কমান্ড করার জন্য গানারের ইনটিগ্রেটেড সাইট গ্লাসের উপর নির্ভর করতে হয়।

ফলে কামান্ডারের পক্ষে হান্টিং-ফাইটিং সামর্থ্য অর্জন করা সম্ভব হয় না। চীনের টাইপ-১৫ ট্যাঙ্কে এই ক্যাপ্টেনস কমপ্রিহেন্সিভ পেরিফেরিয়াল সাইট গ্লাস লাগানোর কথা ছিলো। কিন্তু পরে খরচ বিবেচনা করে তা বাদ দেয়া হয়। এছাড়া বাহ্যিক এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে যা দেখে মনে হয় এতে রিমোট কন্ট্রোল উইপন সিস্টেমও রয়েছে।

রিমোট কন্ট্রোল উইপন স্টেশনের থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি অবগত হওয়া ও লক্ষ্যবস্তু ঠিক করতে কমান্ডারকে সহায়তা করার জন্য। সুরক্ষার দিক দিয়েও ভিটি-৫ লাইট ট্যাঙ্ককে উন্নত করা হয়েছে। এর কার বডি তৈরি করা হয়েছে এফওয়াই-২ রিঅ্যাকটিভ আর্মার দিয়ে। এই আর্মার ড্রাগ-পিয়ার্সিং ওয়ারহেড প্রতিরোধ করতে সক্ষম। কিন্তু এটা ওজনে হালকা। তবে হালের সামনের দিকের রিঅ্যাকশন আর্মার পুরু। ফলে এটা এফওয়াই-৪ রিঅ্যাকশন আর্মার হয়ে থাকবে, যা এফওয়াই-২ থেকে ভারি ও মোটা।

এর আগে পাকিস্তান ভিটি-৪ মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক প্রবর্তন করে, যেগুলো এফওয়াই-৪ রিঅ্যাকটিভ আর্মারে সজ্জিত। এবার ভিটি-৫ ট্যাঙ্ককে এফওয়াই-৪ আর্মারে সজ্জিত করায় মনে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এফওয়াই-৪-এর রফতানি লাইসেন্স অনুমোদন করেছে।

এসব উন্নয়নের ফলে ভিটি-৫ লাইট ট্যাঙ্কের সার্বিক যুদ্ধ ক্ষমতা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেড়ে গেছে। ওজনে হালকা, ইঞ্জিনের শক্তি হালকা হওয়ার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার জলাভূমি পরিবেশে এটি অনেক বেশি উপযোজন ক্ষমতা লাভ করবে। এর ১০৫ মিলিটিার রিফিল্ড গানের গোলাবর্ষণে স্থিতিশীলতা আনার জন্য চীনের নতুন-প্রজন্মের টেইল ফিন ব্যবহার করা হয়েছে।

এই ট্যাঙ্কের গোলা ভারতের টি-৯০ মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্কের শরীর ভেদ করতে সক্ষম। এর পেছনের দিকটিও গোলার হামলা থেকে সুরক্ষিত। অডভান্সড ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, নাইট ভিশন সিস্টেম ও ইনফরমেশন কমান্ড সিস্টেম ভিটি-৫ লাইট ট্যাঙ্ককে অনেক শক্তিধর করে তুলেছে।

ফেসবুকে লাইক দিন