ভারতই একমাত্র রাষ্ট্র যেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানো হয়: ইমরান খান

ইমান২৪.কম: শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনের ভিডিও লিংকে যুক্ত হয়ে এক ঐতিহাসিক বক্তব্য দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

২৭ মিনিটের বক্তৃতায় পাক প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাস, আঞ্চলিক সশস্ত্র লড়াই ও অস্ত্র মজুদের প্রতিযোগিতা, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লামকে কটুক্তি করে স্কেচ প্রকাশ বৃদ্ধি,

দখলকৃত কাশ্মীরে ভারতের নৃশংসতা, স্বাধীন ফিলিস্তিনে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের দখল, জলবায়ু ও পরিবেশ এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে আলোচনা করেন।

ভারতে রাষ্ট্রীয় যোগসাজশে ইসলাম বিদ্বেষ বাড়ছে উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম বিদ্বেষ ছড়ানো হয় তার নাম হলো ভারত। এর জন্য তিনি বিজেপি সরকারকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস প্রভাবিত সরকার বলে দায়ি করেন।

তিনি বলেন, আরএসএস এমন একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন যাদের মতাদর্শ হল, ‘ভারত শুধুমাত্র হিন্দুদের এবং অন্যান্য ধর্ম সর্বোনিকৃষ্ট’।

ইমরান খান বলেন, ১৯৯২ সালে এই উগ্রবাদী সংগঠন ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদকে শহীদ করে এবং ২০০২ সালে তৎকালীন গুজরাটের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তত্বাবধানে গুজরাটের মুসলিমদের উপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়।

তাছাড়া, ২০০৭ সালে ‘সামঝোতা এক্সপ্রেসের’ ৫০ জন মুসলিম যাত্রীকে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা জ্বালিয়ে হত্যা করে এবং আসামের লাখলাখ মুসলিম জনগণকে নাগরিকত্ব সুবিধা বঞ্চিত করে বিতাড়িত করতে জঘন্যভাবে পায়তারা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারতে করোনার বিস্তারের জন্য মুসলমানদের উপর তারা মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার পাশাপাশি করোনায় আক্রান্ত মুসলমানদের চিকিৎসা সেবা দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিল! গাও রাকশা বা গরু রক্ষার নামে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা যখন তখন মুসলমানদের হত্যা করছে। এমনকি ভারতের ৩০ কোটি মুসলমান, খ্রিস্টান, ও শিখদের পিঠ দেয়ালে ঠেকাতে তারা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফেসবুকে লাইক দিন