বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে যাচ্ছে ইসরাইলে!

ইমান২৪.কম: ইসরাইলে নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী শুক্রবার পার্লামেন্টে (নেসেট) আস্থাভোটের পর ওই দিনই সরকার গঠিত হতে পারে। কিন্তু ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা ছাড়তে চাচ্ছেন না।

তিনি যেকোনো মূল্যে গদি আঁকড়ে থাকতে চান। আর তাতেই বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে ইসরাইল। গত ২ বছরের মধ্যে ইসরাইলে চারটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনের মতো ভোট কোনো দলই অর্জন করতে পারেনি।

পঞ্চম নির্বাচন যখন অনিবার্য বলে মনে হচ্ছিল, তখনই ডান, মধ্যপন্থী, আরব-ইসরাইলিসহ বেশ কয়েকটি দল মিলে জোট সরকার গঠনে একমত হয়। কিন্তু নেতানিয়াহু এটাকে মেনে নিতে পারছেন না। তিনি নতুন সরকারের প্রতি ভোট না দিতে নেসেটের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। তিনি এমনকি নেসেট সদস্যদের বাড়ির সামনে তার সমর্থকদের জড়ো করে তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। এর ফলে আগামী কয়েকটি দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বে সরকার যাতে গঠিত হতে না পারে, সেজন্য সম্ভব সবকিছুই করছেন নেতানিয়াহু।

তিনি ও তার দল লিকুদ পার্টি সম্ভাব্য দলত্যাগীদের খুঁজে বেড়াচ্ছে হন্যে হয়ে। ১২০ সদস্যবিশিষ্ট নেসেটে বেনেটের রয়েছে ৬১ সদস্যের অতি সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ফলে দুজন সদস্যকেও যদি পক্ষচ্যুত করতে পারেন নেতানিয়াহু, তবেই নতুন সরকার গঠনের প্রয়াস ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হলো, এখন যে জোট সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে, তার রাস্তা কিন্তু তিনিই খুলে দিয়েছেন।

সরকার গঠনের জন্য আরব দলগুলোর সাথে আলোচনা না করার আইন ছিল ইসরাইলে। নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য এই আইন প্রত্যাহার করেছিলেন নেতানিয়াহুই। আর ওই আরবদের সমর্থন নিয়েই এখন সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন বেনেট।

স্মিথ কলেজের জিউশ স্টাডিজ অ্যান্ড গভার্নমেন্টের অধ্যাপক ডোনা রবিনসন ডিভাইন বলেন, নেতানিয়াহুই বিকল্প প্রধানমন্ত্রীদের জন্য বেসিক আইনের পরিবর্তন করেছেন। তিনিই তার নিজের কোয়ালিশনকে সমর্থন দেয়ার জন্য মনসুর আব্বাসের সাথে আলোচনা শুরু করেছিলেন। এদিকে ইসরাইল এখন গভীরভাবে বিভক্ত : নেতানিয়াহুর পক্ষে ও বিপক্ষে।

ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান শিন বেতের প্রধান নাভাদ আর্জেম্যান রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা ব্যক্ত করে সবাইকে নিরস্ত্র থাকতে বলেছেন। কারো নাম প্রকাশ না করেও তিনি প্রধানত নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ দলের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন।

লিকুদ দল প্রকাশেই ডানপন্থী নেসেট সদস্যদের ভবিষ্যতের সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী সদস্যদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিহিত করছে। এদিকে নেতানিয়াহু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগও তুলছেন। তিনি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী জালিয়াতি এবং গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতারণার অভিযোগও তুলেছেন। এ দিক থেকে তার সাথে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিল রয়েছে। আবার ট্রাম্পের বক্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাও ঘটেছিল। সূত্র : আল জাজিরা

ফেসবুকে লাইক দিন