ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে মালটার চাষ!

ইমান২৪.কম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে মালটার চাষ। তবে, শুরুতে মালটা চাষ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে লোকসানের শঙ্কা দেখা দিলেও ফলন ভালো হওয়ায় এখন অনেকটা আশাবাদী তারা। পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকদের মালটা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন সাহায্য ও পরামর্শ দেয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা। লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারার পর ফল-সমৃদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথমবারের মতো করা হচ্ছে মালটার চাষ। জেলার ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার নোয়াবাদী, বিষ্ণুপুর, পাহাড়পুরসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিটি বাগানে এখন মালটার সমারোহ। বাগান মালিকরা জানান, দুই বছর আগে মালটার চারা প্রণোদনা দেয় কৃষি বিভাগ।

পরীক্ষামূলক সেসব চারা বাগানে লাগান তারা। শুরুতে ফলটির চাষাবাদে কিছুটা দ্বিধা আর শঙ্কা থাকলেও দুই বছরের ব্যবধানে পাল্টে গেছে সেই চিত্র। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলন ভালো পেয়েছেন তারা। তাদের সাফল্য দেখে আশেপাশের এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেছেন মালটার চাষ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাদিউল ইসলাম ভূইয়া জানায়, কৃষকদের সাইট্রাস ভিলেজ প্রজেক্ট এর আওতায় বিনামূল্যে মালটার চারা দেয়া হয়। পাশাপাশি ফল চাষে নিয়মিত সাহায্য ও পরামর্শও দেয়া হচ্ছে। এক কৃষক জানান, কৃষি কর্মকর্তা আমাকে বাগানটা দিয়েছে। অনেকগুলো গাছ ছিল। আমি প্রথমে ভাবছিলাম ফল আসবে না। কিন্তু না পরে দেখলাম, অনেক ফল আসছে।

অন্য আরেকজন জানান, প্রচুর পরিমাণে ফল আসছে। সেই সাথে আমরা খেয়ে দেখেছি, এবং ফলও সুমিষ্ট। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিঙ্গাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা আম-কাঁঠালের মতো যেভাবে লাভবান হচ্ছে, তারা এটাও চাষ করে সেইরকমভাবে লাভবান হবে। কৃষি কর্মকর্তা জানান, তাদেরকে আমরা বিনামূল্যে চারা, কীটনাশক ও ঔষধ এবং বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। তারা আমাদের পরামর্শ মতে বাগানগুলো করেছে। এবং প্রতিটি বাগানে খুবই সুন্দর ফল আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ২শ ৪০টি বাগানে মালটার চাষ করা হচ্ছে। এসব বাগান থেকে ১শ মেট্রিক টনেরও বেশি মালটা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: অবশেষে পটুয়াখালীর ‘জেলা ইজতেমা’ শুরু

খাশোগির এক হত্যাকারী সৌদিতে গাড়িচাপায় নিহত

ফেসবুকে লাইক দিন