বিয়ের পর ‘ওলিমা’ কী এবং কেন?

ইমান২৪.কম: বিয়ের পর ছেলের পক্ষে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও গরিব-মিসকিনদের সাধ্যমতো আপ্যায়ন করাকে ওলিমা বলা হয়। বাংলায় ওলিমাকে বউভাত বলা হয়।

বিয়ের পরদিন বা পরবর্তী সময়ে ওলিমা করা যায়। তবে তিন দিনের মধ্যে করা উত্তম। ওলিমা একটি ইবাদত। এক দিন ওলিমা করা সুন্নত, দুই দিন ওলিমা করা মুস্তাহাব, তিন দিন ওলিমা করা জায়েজ।

(মুসলিম, হাদিস : ১৪২৭) মহানবী (সা.) নিজে ওলিমা করেছেন এবং সাহাবিদের করতে বলেছেন। মহানবী (সা.) জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-কে বিয়ে করার পরদিন ওলিমা অনুষ্ঠান করেছিলেন। (বুখারি, হাদিস : ৫১৭০)। আর তিনি সাফিয়াহ (রা.)-কে বিয়ের পর তিন দিন পর্যন্ত ওলিমা খাইয়েছিলেন। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস : ৩৮৩৪)।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন এই ওলিমা অনুষ্ঠান করতে হয়। এর জবাব হলো— ১. ওলিমা দ্বারা এ কথার প্রচার হয় যে বিবাহকারী নিজ স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করতে চায়। এই ধরনের প্রচার এ জন্য জরুরি, যাতে বংশবিস্তার সম্পর্কে কারো মনে সন্দেহ সৃষ্টি না হয় এবং বিবাহটা একটা গাম্ভীর্যপূর্ণ ও সবার জানাশোনা হয়ে যায়। এর দ্বারা মানুষের সামনে ওই নারীর সঙ্গে বৈধ সম্পর্ক প্রমাণ হয়ে যায়।

২. ওলিমার মাধ্যমে স্ত্রী ও স্বামীর বংশের লোকদের কাছ থেকে ভালো আচরণ পাওয়া যায়। কেননা ওলিমার জন্য সম্পদ খরচ করা এবং মানুষ জড়ো করার দ্বারা এ কথার প্রমাণ বহন করে যে স্বামীর কাছে স্ত্রীর অবস্থান ও মর্যাদা রয়েছে। তাই স্বামী নিজের স্ত্রীর জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে সক্ষম।

তা ছাড়া এ ধরনের কাজ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টিতে সহায়ক। ৩. নতুন কোনো নিয়ামত পেলে খুশি প্রকাশ ও শোকরিয়া আদায় করার দাবি রাখে। এভাবে খুশি প্রকাশের অভ্যাস গড়লে দাতাসুলভ অভ্যাস তৈরি হয় এবং কৃপণতার স্বভাব বিদায় নেয়। এ ছাড়া এতে বহু ফায়দা নিহিত রয়েছে। ওলিমার ভেতর শহর ও ঘরের ব্যবস্থাপনাসহ বংশমর্যাদা এবং সহানুভূতি ইত্যাদি কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

তাই মহানবী (সা.) বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং স্বয়ং আমলও করে দেখিয়েছেন। মহানবী (সা.) ওলিমার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্দেশ করেননি। বরং মধ্যমপন্থার সীমা হলো বকরি জবাই করা। তিনি সাফিয়া (রা.)-এর বিবাহে লোকদের মালিদা (চিনি ও ঘি দিয়ে প্রস্তুতকৃত খানা) খাইয়েছিলেন। মূল কথা হলো, সামর্থ্য অনুযায়ী ওলিমা উদ্‌যাপন করবে।

ফেসবুকে লাইক দিন