বিশ্ব মিডিয়ায় চকবাজারের আগুন নিয়ে সমালোচনার ঝড়

ইমান২৪.কম: ঢাকার চকবাজারে আগুন লেগে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় আবারও বিশ্ব মিডিয়ার শিরোনাম হলো বাংলাদেশ। এ ঘটনা এক নম্বর শিরোনাম হয়েছে বিবিসি-আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। একই সঙ্গে বারবার আগুন লাগলেও ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংবাদমাধ্যমগুলো।

বিবিসিতে দিনের প্রধান খবর হিসেবে প্রকাশ করা হয় আগুনের খবরটি। শিরোনাম ছিলো, ‘ঢাকার ঐতিহাসিক এলাকায় আগুনে নিহত ৭৮’। একই সঙ্গে আরও চারটি চারটি সাইডস্টোরি প্রকাশ করা হয়। মূল সংবাদে বলা হয়, ঐ এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়, ২০১০ সালেও আগুন লেগে নিমতলীতে ১২৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেবার গঠিত তদন্ত কমিটি কেমিক্যাল কারখানা সরাতে বললেও তা বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপই নেয়া হয়নি।

মূল খবরে বিবিসির প্রতিবেদক বলেন, ‘বাংলাদেশে বড় ভবনে আগুন লাগার ঘটনা সাধারণ ব্যাপার। কর্তৃপক্ষের শিথিল নিয়ন্ত্রণ ও ত্রুটিপূর্ণ অবস্থাই এর কারণ।’

আল-জাজিরা ব্যানার হেডলাইন করেছে চকবাজারের আগুনকে। শিরোনাম দেয়া হয়, ‘আমি বিগ ব্যাংয়ের মতো বিস্ফোরণ শুনেছি—বাংলাদেশে বড় আগুনে অনেক মানুষের মৃত্যু’। সঙ্গে ছিলো আরও তিনটি সাইডস্টোরি। খবরে আল-জাজিরা বলেছে, ‘বাংলাদেশে লাভজনক ইন্ডাস্ট্রির খরচ কমানোর অর্থ হলো নিরাপত্তায় গুরুত্ব না দেয়া। ২০০৬ সালের পর থেকে দেশটিতে ৬০০ শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা গেছে।’

সিএনএনে ‘ঢাকায় অ্যাপার্টমেন্টে আগুন নিহত ৭০’ শিরোনামে দেয়া দ্বিতীয় প্রধান খবরে বলা হয়, ‘ঢাকার আগুন লেগে মৃত্যুর মর্মান্তিক ইতিহাস রয়েছে।’

সিএনএন ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনে আগুন লেগে ১১৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনাসহ বাংলাদেশে ঘটা বড় অগ্নিকাণ্ডের খতিয়ানও উল্লেখ করেছে খবরে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস, যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল, সৌদি আরবের আরব টাইমস, ভারতের এনডিটিভিসহ বিশ্বের প্রায় সবকটি সর্বাধিক পঠিত সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে চকবাজারের আগুনের খবরটি।

চকবাজার অগ্নিকাণ্ড: সবই পুড়ল, রইল শুধু ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’

চকবাজার অগ্নিকাণ্ড: সবই পুড়ল, রইল শুধু ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’

ইমান২৪.কম: রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার এলাকার চুড়িহাট্টা মোড়ে গিয়ে একটু বাঁ দিকে ঘুরলেই চোখে পড়ল রাজমনি হোটেল। পুরান ঢাকার জনপ্রিয় খাবারের হোটেলটি গতকাল রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে ছাই। পুড়ে গেছে দোকানারের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সাটারও।

তবে হোটেলে প্রবেশদ্বারের উপরে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স.)’ লেখা সংবলিত লেখাংশটুকু ঠিকই অবিকল অবস্থায় রয়ছে। আরবি ও বাংলা ভাষায় লেখা পবিত্র কালেমার প্রতি দৃষ্টি পড়ছে এলাকাবাসী সকলেরই।

আজ বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকাটি যেন এক মৃত্যুপুরীর আকার ধারণ করেছে। আগুনে পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন বহন করছে এলাকার দালানকোটাসহ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। মালামালসহ সব জিনিসপত্রই পুড়ে ছাই।

রাজমনি হোটেলর সামনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের সামনের সাটার পুড়ে গেছে। দোকানের হাড়িপাতিলসহ আসবাবপত্রও পুড়ে গেছে। কালি ও কেমিক্যালের ধোঁয়ার চিহ্ন হোটেলের দেওয়ালে দেওয়ালে।

হোটেলের মালিক ও বয়-বেয়ারাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা কেউ বলতে পারছে না। তবে জয়নাল আবেদীন বাবুল নামে এক ব্যক্তি চা খাওয়ার জন্য গতকাল রাত ১০টা ২১ মিনিটে চা খেতে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি তাঁর মেয়ে নাসরিন আক্তারের সঙ্গে কথা বলেন। এর এক মিনিট পরই হোটেলটির সামনে থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান নাসরিন।

নাসরিন আক্তার এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আব্বুর সাথে কথা বলার এক মিনিট পর ১০টা ২২ মিনিটে একটি বিকট শব্দ শুনতে পাই। এর পর পরই আব্বুর মোবাইলে ফোন করি। কিন্তু রিং হয় ফোন রিসিভ হয় না। ১০ টা ২৫ মিনেটের পর মোবাইলটি বন্ধ হয়ে যায়। আব্বুর মুখের আওয়াজ আর পাইনি। সেই থেকেই আব্বুকে খোঁজার চেষ্টা করছি।’

রাজমনি হোটেলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলটির দুইপাশেই রাস্তার ওপরে কেমিক্যালের পুড়ে যাওয়া ড্রামগুলো পড়ে আছে। এলাকাবাসী জানান, এখানে কয়েকটি ভবনের নিচতলাকে কেমিক্যালের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করতেন ব্যবসায়ীরা। আগুন লাগার সঙ্গেই সঙ্গেই কেমিক্যালের কারণে তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে।

চকবাজারের নন্দকুমার সড়কের চুড়িহাট্টায় বুধবার রাতে এই শাহী মসজিদের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই আগুন লাগে জামাল কমিউনিটি সেন্টারে। আগুনের ভয়াবহতা এত বেশি ছিল যে সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের চারতলা ওয়াহিদ ম্যানশনে।

ভবনটির প্রথম দুইতলায় প্রসাধন সামগ্রী, প্লাস্টিকের দানা ও রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদাম থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরো চারটি ভবনে। রাজমনিসহ আশেপাশের কয়েকটি খাবারের হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডারেরও বিস্ফোরণ ঘটে। পুড়ে যায় সড়কে থাকা একটি প্রাইভেটকারসহ কয়েকটি যানবাহন। এ সময় পুড়ে যাওয়া কয়েকটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

অগ্নিকাণ্ডে মৃতরা শহীদ: আল্লামা আহমদ শফী

অগ্নিকাণ্ডে মৃতরা শহীদ: আল্লামা আহমদ শফী

রাজধানীর চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন আমিরে হেফাজত, দারুল উলূম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আমিরে হেফাজতের কার্যালয় থেকে এ শোকবার্তা জানানো হয়।

শোকবার্তায় আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে যারা মারা গেছেন, তারা শহীদের মর্যাদা পাবেন ইনশাআল্লাহ। এ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি এবং মসজিদে-মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজনের জন্য সম্মানিত ইমাম ও খতিবদের প্রতি অনুরোধ করছি।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার পর চকবাজারের সুরিটোলায় একটি ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে বেশ কিছু ভবন পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেখান থেকে ৭০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  পাক-ভারত সীমান্তে গোলাগুলি : মর্টার শেল ও ভারী গোলাবর্ষণ

চুপ করে বসে থাকবো না, পাল্টা হামলা চালাব: ইমরান খান

হামলার জবাব দিতে কতটুকু প্রস্তুত ভারতের সেনাবাহিনী?

ভারত-পাকিস্তান সিমান্ত রণসাজে সজ্জিত, ৬০০ ট্যাংক পাঠালো পাকিস্তান

আবারও ব্যাপক সংঘর্ষ কাশ্মীরে, ভারতীয় বাহিনীর মেজর-সহ নিহত ৫

জাপানি নারীর ইসলাম গ্রহণের হৃদয়বিধারক ঘটনা ও পর্দার প্রতি সন্মান

ফেসবুকে লাইক দিন