বিশালাকারের বন্দী শিবির তৈরি করবে ভারত, আতংকে মুসলিমরা!

ইমান২৪.কম: ভারতের বিজেপি সরকার কট্টর হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দেশটির মুসলিমরা। ভারতে কমপক্ষে ৪০ লাখ মানুষ বিদেশী অভিবাসী ঘোষিত

হওয়ার ঝুঁকিতে। এর বেশির ভাগই মুসলিম। নাগরিকত্বের জনপ্রিয় যে ধারা তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে দেশটির বিজেপি সরকার এবং নতুন করে নাগরিকত্বের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে আসাম রাজ্য সরকার

ফরেনার ট্রাইব্যুনাল দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধি করছে। পরিকল্পনা নিয়েছে নতুন নতুন বিশাল সব বন্দিশিবির নির্মাণের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব

কথা বলা হয়েছে। সাংবাদিক জেফ্রে জেটলম্যান ও হরি কুমারের লেখা প্রতিবেদনটির শিরোনাম-‘ইন্ডিয়া প্লানস বিগ ডিটেনশন ক্যাম্পস ফর মাইগ্রেন্টস অ্যান্ড মুসলিমস আর অ্যাফ্রেইড’। এতে তারা আরো লিখেছেন,

আসামে অভিবাসীদের ধরপাকড় শুরু হতে যাচ্ছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে পাহাড়ি এ রাজ্যে যেসব বিপুল সংখ্যক নাগরিকের নাগরিকত্ব এখন প্রশ্নের মুখে, তারা জন্মেছেন এই রাজ্যে। তারা এখানে

নির্বাচনে ভোট দেয়া থেকে সব রকম নাগরিক সুবিধা ভোগ করছেন। কিন্তু রাজ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুততার (র‌্যাপিডলি) সঙ্গে ফরেনার ট্রাইবুনাল বৃদ্ধি করছে। একই সঙ্গে নতুন নতুন বিশাল আকারের বন্দিশিবির নির্মাণের

পরিকল্পনা করছে। শত শত মানুষকে বিদেশী অভিবাসী হিসেবে সন্দেহজনকভাবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে পদস্থ বর্ষীয়ান এক মুসলিম যোদ্ধাও। স্থানীয়

অধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, নাগরিকত্বের প্রাথমিক তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বেদনায় এবং জেলে যাওয়ার আতঙ্কে এরই মধ্যে কয়েক ডজন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তাতে প্রধানমন্ত্রী

নরেন্দ্র মোদির শাসক দল পিছু হটছে না। উপরন্তু তারা ভারতের অন্যান্য অংশে নাগরিকদের নাগরিকত্ব প্রমাণের এমন ধারা চালু করার প্রত্যয় ঘোষণা করছে। মে মাসে লোকসভা নির্বাচনে নতুন করে নির্বাচিত

হওয়ার আগে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জাতীয়বাতাদী কর্মসূচির অংশ এটা। তার সরকারের জনপ্রিয়তার কৌশল এটি। ওদিকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছেই। আসাম উদ্বেগের সঙ্গে নাগরিকত্ব পর্যবেক্ষণ

করছে। এই ধারা শুরু হয়েছে এক বছর আগে। তা শেষ হওয়ার কথা ৩১ শে আগস্ট। এই ঘটনাটি মুসলিমদের পিছনে ঠেলে দেয়ার আরেকটি উদ্যোগের সঙ্গে মিলে গেছে, যা ঘটছে আসাম থেকে কমপক্ষে ১০০০ মাইল

দূরে। দু’সপ্তাহেরও কম সময় আগে ভারতের মোদি সরকার জম্মু ও কাশ্মীরে ‘স্টেটহুড’ একতরফাভাবে কেড়ে নিয়েছে। এর ফলে জম্মু-কাশ্মীর তার বিশেষ স্বায়ত্তশাসন হারিয়েছে। চলে গেছে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে। তবে স্থানীয় কোনো নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা হয়নি। এসব নেতার অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন>> বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে দ্বিপাক্ষিক বহু বিষয়ে চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে বাংলাদেশের অন্যতম দাবি, তিস্তা চুক্তির বিষয়ে ভারত আগের অবস্থানেই অনড় বলে জানিয়েছেন দেশটির

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পররাষ্ট্র পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান। আজ বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ

কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে জয়শঙ্করের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এ বৈঠকে তিস্তা চুক্তিসহ অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে এসে

আশ্বস্ত করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই তিস্তা চুক্তি হবে। সেই অঙ্গীকারে ভারত এখনো অনড় রয়েছে। রাজ্য সরকারকে বুঝিয়ে অতিদ্রুত তিস্তা চুক্তি করা হবে। তবে এবার আশায় গুড়ে বালি বাংলাদেশের।

বৈঠক থেকে বের হয়ে জয়শঙ্কর বলেন, তিস্তা চুক্তির বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি যে প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশকে দিয়েছে, তাতে ভারত অনড়। সেটা নিয়ে কাজও করছে সরকার। এ ছাড়া যোগাযোগ, জ্বালানি ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে দুই

দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে। এসময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার অঙ্গীকার পুনোব্যক্ত করেন। আসামের এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন এমন প্রশ্নের জবাবে

জয়শঙ্কর বলেন, জাতীয় নাগরিক পুঞ্জী (এনআরসি) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে

শ্রদ্ধা জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাদুঘর পরিদর্শন করেন তিনি। বেলা ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন জয়শঙ্কর।

ইমান২৪/এ/আর

ফেসবুকে লাইক দিন