বিবাড়িয়ায় ১৭ জন কাদিয়ানীর মাদ্রাসায় এসে ইসলাম গ্রহন

ইমান২৪.কম: বিবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার অফিসে এসে ১৭জন স্থানীয় কাদিয়ানী (১৫ জানুয়ারি বুধবার সকাল) তাওবা করে পুনরায় ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা করেছেন।

এসময় তারা কাদিয়ানীদের নীরব নির্যাতনেরও বিবরণ দেন। তাদের ইসলাম গ্রহণের ভিডিও ইতিমধ্যে ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, কান্দিপাড়া এলাকার একজন তার ১৭জন সঙ্গীসহ জামিয়া ইউনুসিয়ায় এসে কাদিয়ানীদের মিথ্যাবাদী হওয়ার চাক্ষুষ বিভিন্ন প্রমাণ দিচ্ছেন।

তারপর তারা কাদিয়ানীদের কৌশলে নির্যাতনেরও বিবরণ দেন। ভিডিও তিনি বলেন যে, “আমরা ১৭ জন তওবা করে ইসলাম ধর্মে ফিরে এসেছি। এজন্য আমাদেরকে সর্বদাই কাদিয়ানীরা চাপ সৃষ্টি করে এবং জুলুম ও নির্যাতন করে।”

এ সময় সেখানে মাদরাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুর রহীমসহ জামেয়ার সিনিয়র কয়েকজন উস্তায এবং জেলার দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কাদিয়ানী ধর্ম থেকে স্বেচ্ছায় ফিরে আসার পর কেন মানুষকে নির্যাতন করা হবে, একটি সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম দেশে কেন কাদিয়ানীয়াত থেকে তাওবা করার পর হুমকির সম্মুখীন হতে হবে এজন্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজি।

মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজি বলেন, কাদিয়ানী ধর্ম কেউ ইচ্ছায় গ্রহণ করে না। না বুঝে ফাঁদে পড়ে গ্রহণ করে।

পরে যখন বুঝতে পেরে ফিরে আসতে চায়, তখন কাদিয়ানীরা বিভিন্নভাবে তাদেরকে ‍হুমকি দিয়ে হয়রানি করে, যা বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম রাষ্ট্রের জন্যে খুবই দু:খজনক।

এদিকে কাদিয়ানী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেম মারকাযুদ দাওয়া আল ইসলামিয়া ঢাকার শিক্ষক মাওলানা হুসাইন আহমদ জানিয়েছেন, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের হুমকি-ধমকি, চোখ রাঙ্গানি, প্রশাসনকে ব্যবহার করে সাধারণ মুসলমানকে কাদিয়ানী ধর্ম ত্যাগে নিষেধ করার অভ্যাস পুরানো।

তারা উপরে উপরে ভালোবাসার কথা বললেও ভেতরে ভেতরে এর বিপরীতটাই পোষণ করে থাকে, যা বিবাড়িয়ায় ইসলাম গ্রহণকারী লোকগুলোর কথা থেকে আবারও পরিস্কারভাবে ফুটে ওঠল।

তবে বর্তমানের আন্দোলনটাকে আরো কর্যকর করার জন্যে মাওলানা হুসাইনের পরামর্শ হল, জনসাধারণের এই জযবা ও স্পৃহাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ওই সব এলাকায় যদি কাদিয়ানী বিষয়ে সচেতনতার জন্যে বিভিন্ন সেমিনারেরও আয়োজন করা হয়, তাহলে এ সব আন্দোলন আরও ফল বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন এই আলেম।

ফেসবুকে লাইক দিন