বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ভোগান্তি বেড়েছে গ্রাহকের

বর্তমানে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৬৭ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে অন্তত ৫ লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। ব্যবহূত বিদ্যুতের চেয়ে বেশি বিল, বিল পরিশোধে ভোগান্তি, বিদ্যুত্ চুরি এবং বকেয়া বিলসহ নানা অনিয়ম-হয়রানি দূর করার জন্য প্রিপেইড মিটারকে ভালো সমাধান মনে করেছিলেন এই খাতের গ্রাহক ও সরবরাহকারীরা।

কিন্তু নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে এই প্রিপেইড মিটারই গ্রাহকদের স্বস্তির পরিবর্তে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত খরচের কারন হয়ে দারিয়েছে। কোনও ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকরা। প্রিপেইড মিটারের বিদ্যুৎ বিল দিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকরা বলছেন, আগে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরে বিল দিতে হলেও এখন তারা বিল দিচ্ছেন বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগেই। অথচ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

বিল পরিশোধে গ্রাহকদের ভোগান্তি: সিলেট, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহ শহরে প্রিপেইড মিটার চালু রয়েছে। এই এলাকাগুলোতে দুই লাখ প্রিপেইড গ্রাহকের জন্য বিদ্যুত্ ক্রয়কেন্দ্র বা ভেন্ডিং স্টেশন রয়েছে ৪০টিরও কম। এছারা চট্টগ্রামে মাত্র একটি ব্যাংকের দুইটি শাখায় বিল গ্রহন করা হচ্ছে।  দীর্ঘলাইনে অপেক্ষা করে গ্রাহকদের বিদ্যুত্ পরিশোধ করতে হচ্ছে। আরইবির আওতায় বিভিন্ন এলাকায় ২০ হাজার ৫০০ প্রিপেইড মিটার থাকলেও পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিগুলোর অফিসে গিয়ে বিল পরিশোধ করতে হয়। এতেকরে বেসিরভাগ গ্রাহকদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়। অতিরিক্ত আর্থিক খরচ ও শারীরিক শ্রম ব্যয় হয়।

রাজধানী ঢাকার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ডিপিডিসি। তাদের আড়াই লাখ প্রিপেইড মিটার রয়েছে, যা মোট গ্রাহকের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। পর্যায়ক্রমে সব গ্রাহককেই প্রিপেইড মিটার সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে ডিপিডিসি। গ্রাহকদের আশঙ্কা, বিল দেওয়ার নিয়ম সহজ না করে প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে।

২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যমান ও নতুন মিলিয়ে দুই কোটি ২০ লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার পাবেন। এছাড়া পর্যায়ক্রমে দেশের সব গ্রাহককেই নিয়ে আসা হবে প্রিপেইড মিটারের আওতায়। অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই সারাদেশে ব্যাপকভাবে প্রিপেইড মিটার ছড়িয়ে পড়বে। দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৭০ লাখের কাছাকাছি। এর বাইরে প্রতিমাসেই প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।

প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকদের ভোগান্তির ব্যপারে জানতে চাইলে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘কিছু সমস্যা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সেগুলোর সমাধান করতে। এর মধ্যে একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। অন্য আরও মোবাইল ফোন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হবে।’ অতি শিঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি জানান।

আগ্রিম বিল পরিশোধ করেও জামানত দিতে হচ্ছে: পোস্টপেইড গ্রাহকরা বিদ্যুত্ ব্যবহারের পর বিল দেন বলে তাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা জামানত রাখা হয়। কিন্তু প্রিপেইড গ্রাহক আগেই বিল দিয়ে দেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রিপেইড গ্রাহকদের কাছ থেকে নিরাপত্তা জামানত বাবদ অর্থ কেটে রাখা অযৌক্তিক। গত সেপ্টেম্বরে বিদ্যুতের মূল্য পুনর্নির্ধারণের গণশুনানিতে এ নিয়ে ক্ষোভ জানান গ্রাহকরা। শুনানিতে অংশ নিয়ে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডও (পিডিবি) নতুন প্রিপেইড মিটারের নতুন সংযোগের জন্য জামানত গ্রহণ না করার জন্য প্রস্তাব দেয়।
এ প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক বলেন, প্রিপেইড মিটার নতুনভাবে শুরু হয়েছে এবং এটি জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রিপেইড মিটারের ভোগান্তির বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের নজরে এসেছে শুরুতে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে তবে ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে ঠিক করা হবে। আমরা পেমেন্ট গেটওয়ে তৈরি করছি। দেশে মোবাইলে যেভাবে রিচার্জ করা হয়, একইভাবে পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিলও দেওয়া যাবে। আশা করছি, এই কাজ শেষ করতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। এরপর গ্রাহকদের ভোগান্তি কমে আসবে।’

ফেসবুকে লাইক দিন