বিজেপির পরাজয়ের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে আসামে

ইমান২৪.কম: ভারতের আসাম রাজ্য আর বিজেপির হাতে থাকছে না! রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির এনডিএ জোটের পরাজয়ের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কংগ্রেস এবং বদরুদ্দিন আজমলের অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের ইউপিএ জোট জয় পেতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যটিতে তিন দফার ভোটগ্রহণ ৬ এপ্রিল সম্পন্ন হয়েছে।

ভোট গণনা হবে ২ মে, সেদিনই ফল। পরাজয়ের মুখে বিজেপি তাদের স্বভাবসুলভ বেপরোয়া ‘হর্স ট্রেডিং’ শুরু করবে, এ আশঙ্কায় কংগ্রেস এবং অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) প্রার্থীদের জয়পুরের একটি হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেস বলেছে, নির্বাচনের পর বিজেপি যাতে কংগ্রেস বিধায়কদের ঐক্য ভাঙার চেষ্টা করতে না পারে, সেজন্য তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দলটির মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেছেন, ‘বিজেপি রাজনীতির বস্ত্রহরণ করছে, তখন কাউকে তো উঠে দাঁড়াতে হবে।’

ভারতে ভোটগ্রহণের পর বুথফেরত সমীক্ষা নিষিদ্ধ। তবে স্বাধীন সূত্রে যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ১২৬ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেস-এআইইউডিএফের ইউপিএ জোট ৭০ আসনে জিততে পারে। অন্যদিকে, বিজেপির এনডিএ জোট পেতে পারে ৫০ আসন।

এশিয়ানেট নিউজ জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে এইআইইউডিএফ-এর সব প্রার্থীই সুদূর রাজস্থানের রাজধানীর ফেয়ারমাউন্ট হোটেলের বাসিন্দা হয়েছেন। ২ মে ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে থাকবেন বলে জানা গেছে।

তবে শুধু প্রার্থীদের রাজ্য থেকে বহুদূরে পাঠিয়েই নিশ্চিন্ত হতে পারছে না তারা, তাদের নজরে রাখার জন্য, এআইইউডিএফ প্রধান মৌলানা বদরুদ্দীন আজমলও গুয়াহাটি থেকে জয়পুর গেছেন। এই কদিন প্রার্থীদের আজমির শরিফসহ রাজস্থানের সব পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শন করানো হবে।

আসামের কংগ্রেস নেতারাও জানিয়েছেন, জোট শরিকের প্রার্থীরা কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানে আছেন। তাদের দাবি, উত্তপ্ত নির্বাচনের পর আবহাওয়া ঠান্ডা করার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কংগ্রেস দলও তাদের কয়েকন প্রার্থীকে নিয়ে সন্দিহান। নির্বাচনে জয় পেলে, বিজেপির চাপ ও প্রলোভনে তারাও শিবির বদল করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাই ঘোড়া কেনাবেচার সম্ভাবনা একেবারে দূর করতে তাদেরও রাজস্থানে পাঠানো হবে। ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরও আসামের বাইরে রাখারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু এআইইউডিএফ ও কংগ্রেস নয়, ইউপিএ জোটে সিপিএম, সিপিআই, সিপিআইয়ের (এমএল) মতো তিন বামদল, বোড়োল্যান্ড পিপলস পার্টি এবং আরও চারটি আঞ্চলিক দল রয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন