বিচার শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই, তাই জামিন দিল আদালত

ইমান২৪.কম: কখন মামলার বিচার শেষ হবে, তার নিশ্চয়তা না থাকায় তিন হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী মো. মাসুদ মিয়াকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ছয় হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় শাহ জামান ও পাঁচ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় রতন কুমার মণ্ডল জামিন নিয়ে বেরিয়ে গেছেন।

২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ আসামি মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২৮ জানুয়ারি ১ বছর ২ মাস ১৫ দিনের মাথায় তাঁকে জামিন দেন আদালত। আদেশে বলা হয়, মামলাটি কখন নিষ্পত্তি হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই বিবেচনায় জামিনে মুক্তির আদেশ দেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবদুল কাদের পাটোয়ারি প্রথম আলোকে বলেন, আদালত জামিন দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেছিল।

মামলার নথিতে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকা থেকে তিন হাজার পিচ ইয়াবাসহ মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগী ইসহাক মিয়া পালিয়ে যান।

গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির তদন্ত শেষে গত বছরের ১৮ এপ্রিল মাসুদ মিয়াকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। অপর আসামি ইসহাক মিয়ার পূর্ণাঙ্গ নাম–ঠিকানা না পাওয়ায় তাঁকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয় ডিবি পুলিশ।

মামলাটিতে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৬ নভেম্বর বাদীর সাক্ষ্য–জেরা শেষ হয়। অভিযোগপত্রে ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে নয়জনই পুলিশ সদস্য।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক আবদুর রহমান সরকার মাসুদ মিয়ার জামিন আদেশে বলেন, আসামি ১৪ মাস ১৫ দিন যাবৎ জেলহাজতে আছেন। এই দীর্ঘ দিনে শুধু একজন সাক্ষীকে জেরা করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। এই মামলার বিচার কখন শেষ হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আসামির কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেই। আসামির মা অসুস্থ। এসব বিবেচনায় আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। আদেশের এক জায়গায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন।

এর আগে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় আসামি রতন কুমার মণ্ডলকে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি জামিন দেওয়া হয়।

জামিনের আদেশে বলা হয়, আসামি রতন কুমার মণ্ডল গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে জেলহাজতে আছেন। আসামি একটি বাসের সুপারভাইজার ছিলেন। এই মামলায় দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটি কখন নিষ্পত্তি হবে, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ওই মামলার এজাহারে ও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামি একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বরিশালগামী বাসস্ট্যান্ডের সামনে ইয়াবাসহ পুলিশ রতন কুমার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে পাঁচ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার এসআই নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১)–এর টেবিল ৯(খ) ধারায় মামলা করেন।

আইনে যা আছে, ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১)–এর টেবিল ৯(খ) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সাজা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বড় পরিমাপের ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় বেশ কয়েকজন আসামির জামিন হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ৬ হাজার ৬০০ পিচ ইয়াবা রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার মেরি কুইন কলেজের চেয়ারম্যান শাহ জামাল জামিন পান।

সূত্রঃ প্রথম আলো

আরও পড়ুন:  থানার দেয়ালে আ.লীগ নেতার মাথা থেঁতলে দিল সন্ত্রাসীরা

জমজমের পানি নিয়ে গবেষণা করে জাপানি বিজ্ঞানীর বিস্ময়!

‘ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বৃদ্ধির পেছনে ধর্মহীন শিক্ষা ও অশ্লীল সংস্কৃতি দায়ী’

১ হাজার ৯২ দিন পর অবশেষে মুক্তি পেলেন নিরীহ জাহালম

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ ১৬ ফেব্রুয়ারি, তালিকায় আছে জনপ্রতিনিধি ও তাদের স্বজনরা

এখন থেকেপুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা যাবে সরাসরি, খোলা হয়েছে কমপ্লেইন সেল

ফেসবুকে লাইক দিন