বিখ্যাত আজওয়া খেজুরের চারা উৎপাদন হচ্ছে ঝিনাইদহে

ইমান২৪.কম: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সৌদি আরবের সবচেয়ে বিখ্যাত আজওয়া খেজুরের চারা উৎপাদন করছেন মোস্তাক আহমেদ লাবলু নামের এক শিক্ষিত যুবক।

গত ১ বছর চেষ্টার পর ১৩০টি খেজুরের চারা তৈরি করে বাগান করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। কিছু চারার বয়স ইতিমধ্যে ৬ মাস ও ৩ মাস হয়েছে।

মোস্তাক আহমেদ জানান, হাদিসে আজওয়া খেজুরের কথা জেনে নিজ উদ্যোগেই তিনি চারা উৎপাদনে উৎসাহিত হন। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের কৃষি অনুষ্ঠান দেখে এবং ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে আজওয়া খেজুরের ঐতিহাসিক কাহিনী জানতে পারেন।

দেশের বিভিন্ন কৃষি ফার্মে তিনি এ খেজুরের চারার খোঁজ করেছেন, কিন্তু পাননি। সর্বশেষ তিনি ময়মনসিংহের একজন কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানেও ব্যর্থ হয়েছেন।

পরে সিদ্ধান্ত নেন আজওয়া খেজুরের চারা তিনি নিজেই উৎপাদন করবেন। ২০১৭ সালের দিকে সৌদি আরবে বসবাসরত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ২৫টি বীজ সংগ্রহ করেন।

প্রথম পর্যায়ে সেই বীজ থেকে ১৯টি চারা উৎপাদিত হলেও সর্বশেষ টিকে যায় ১২টি চারা। এরপর ২০১৮ সালের প্রথম দিকে সৌদি আরব থেকে বেশকিছু আজওয়া খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে তিনি ১০০টির মতো চারা উৎপাদন করেন।

সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ১৩০টি চারা উৎপাদন করেন। উপজেলার চাচড়া মাঠে মোস্তাক অ্যান্ড মোস্তাফিজ আজওয়া খেজুর বাগান প্রজেক্ট নামে একটি বাগান তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

তিনি জানান, প্রথমে বীজগুলো টিস্যুর মধ্যে রেখে তারপর মাটিতে অত্যন্ত যত্নে রেখে বড় করেছেন। বর্তমানে চারাগুলোর বয়স ৩ মাস। আগের উৎপাদিত প্রায় ১২টি চারা তিনি রোপণ করেছেন। বাকি ১২০টি চারা দিয়ে তিনি আজওয়া খেজুরের বাগান করবেন।

নিজে বাগান তৈরির পর চারা উৎপাদন করে কৃষক পর্যায়ে তা ছড়িয়ে দেবেন তিনি। একটি গাছ থেকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছরে ফল পাওয়া সম্ভব। চারা উৎপাদন করতে লাগে বালি, মাটি আর জৈবসার।

কালীগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার হুমায়ন কবির জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে সৌদি আরবের খেজুর চাষ হচ্ছে। অনেক স্থানে কৃষকরা ফলও পেয়েছেন।

কালীগঞ্জে যে যুবক এ খেজুরের চারা উৎপাদন করেছে তাকে সাধুবাদ জানাই। কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

আরও সংবাদঃ ৮৯ বছর ধরে ১ মিনিটের জন্যও তেলাওয়াত বন্ধ হয়নি এই মসজিদে

মুহাম্মদ (সা.) এর ঐ সময়ে বাংলাদেশে নির্মিত মসজিদ (ভিডিও সহ)

ফেসবুকে লাইক দিন