বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে : মওদুদ

ইমান২৪.কম: বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে তবে কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটশন মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা জানান। মওদুদ বলেন, এ নির্বাচনে একটা বিষয়ে প্রমাণ হয়েছে যে, একটি দলের জনপ্রিয়তাই যথেষ্ট নয়। সংগঠন ছাড়া সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখা যায় না।

নির্বাচনে অনিয়মের বিরুদ্ধে কেনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি নাই সেটার উত্তর খুঁজতে হবে, পর্যালোচনা করতে হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন করেছি, কিন্তু আন্দোলন করিনি। আমি একটি (আন্দোলন) প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা মানা হয়নি। আমরা শীর্ষ নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছি। আমরা সফল না। তৃণমূলের শক্তিকে কাজে লাগাতে পারিনি। লজ্জায় মাথানত হয়ে যায়, যখন ভাবি, এক বছর হল, আমাদের নেত্রী জেলে আছেন। তবে সময় আসবে, আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটিয়ে তাকে মুক্ত করা হবে।

এ জন্য দলকে দ্রুত পুনর্গঠন করে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করতে হবে। বিএনপির এ নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলনের বিকল্প নেই। সেই আন্দোলন করতে হলে সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। গত দশ বছরে সারা দেশে যেসব নেতাকর্মীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে তাদেরকে পুনর্বাসন করতে হবে, তাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদেরকে আবার সক্রিয় করতে হবে। মওদুদ আহমদ বলেন, প্রত্যেক নির্বাচনি এলাকায় যত গায়েবি মামলা রয়েছে, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে, আহত হয়েছে তাদের দেখাশোনার জন্য প্রার্থীদের দায়িত্ব নিতে হবে। তরুণদের সামনে আনতে হবে।

আর এটা করতে পারলে খুব শিগগির সরকার পতনের আন্দোলনের সময় আসবে। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে সাহস নিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আমরা ঘুরে দাঁড়াব। এ জন্য সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। এ বিষয়ে আরও জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। এই জন্য দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করতে হবে। বিগত দিনে দলের যারা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের পাশে দলের নেতা এবং যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাদের দাঁড়াতে হবে।

খালেদা জিয়াকে বেশিদিন আটকে রাখা যাবে না মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ধানের শীষে ভোট দিতে পারলে এতদিনে খালেদা জিয়া মুক্ত হতেন। সরকার জানে, দিনের বেলায় ভোট হলে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে পারবে না। তাই তারা রাতের বেলায় ভোট করছে। তিনি বলেন, বিএনপি পরাজিত হয়নি। আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছে। কারণ তারা একজনও নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারেনি। নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে দলের সিনিয়র এই নেতা বলেন, ৮০ ভাগ মানুষ ধানের শীষের ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল।

এটা সরকারের কাছে গোপন থাকেনি। তাই ২৯ তারিখেই সরকার ভোট সম্পন্ন করেছিল। তিনি আরও বলেন, ৩০ তারিখ এ দেশে কোনো ভোট হয়নি। ২৯ তারিখ ভোট হয়েছে, এটা আমেরিকার প্রেসিডেন্টসহ দেশি-বিদেশি সবাই জানে। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজ এক বছর হল রাজনীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাকে কি আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করা যাবে?

আমরা নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবেই মুক্ত করে আনব। তিনি বলেন, কারাগারে থেকে তিনি আজকে গণতন্ত্রের জন্য মূল্য দিচ্ছেন। তাই আমাদেরকে রাজপথ আন্দোলন করে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনব। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আবার প্রধানমন্ত্রী করার জন্য আহ্বান জানান বিএনপির এ নেতা। প্রতিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমুখ।

আরও পড়ুন: পিকনিকের বাসে দুই লক্ষাধিক ইয়াবা, আটক ৬

কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধের দাবিতে পঞ্চগড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ 

ফেসবুকে লাইক দিন