বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চালুর সিদ্ধান্ত, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ইমান২৪.কম: বিধিনিষেধ শিথিলের খবরে রাজধানীসহ পুরো দেশজুড়ে রাস্তাঘাটে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। ১৫ তারিখ থেকে শপিং মল, দোকানপাট খোলা এবং গণপরিবহন চালুর খবর প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় দৃশ্যপট। পল্টন, শান্তিনগর, পান্থপথ, মিরপুর রোড ঘুরে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি। ফুটপাতের দোকান খুলেছে। মানুষজন রাস্তায় হেঁটে কিংবা রিকশায় চলাচল করছে বেশি।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আগামী ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত চলমান কঠোর লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। লকডাউন শিথিলের এই সময়ে চালু থাকবে গণপরিবহন। খোলা থাকবে শপিংমল ও দোকানপাট। তবে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত আবার কঠোর লকডাউন শুরু হবে।

এদিকে কঠোর বিধিনিষিধ শিথিল করায় বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে বাস, ট্রেন, বিমান ও লঞ্চ চালুর ঘোষণায় যেন যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) থেকেই এসব পরিবহনের টিকেট কাটার ধুম পড়ে গেছে। সাজ সাজ রব পড়ে গেছে রাজধানীর বাস-টার্মিনাল, রেলস্টেশন, বিমান অফিস ও লঞ্চ টার্মিনালে।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকরা পরিবহনের ধোয়া-মোছার কাজ সেরে নিচ্ছেন। ঈদের আগে গণপরিবহন চালুর খবরে তারা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে গণপরিবহন চলতে পারবে। এজন্য বাস ও লঞ্চ বুধবার মধ্যরাত থেকেই চলাচল শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর ট্রেন চলাচল শুরু হবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে এক সিট ফাঁকা রেখে, ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চলাচল করবে। আগামীকাল বুধবার থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। সরাসরি টিকিট কেনার পাশাপাশি অনলাইনেও কেনা যাবে বাসের টিকিট।

নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, ১৪ জুলাই বুধবার মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করবে। ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী নৌযান পুনরায় চলাচল বন্ধ থাকবে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ২৪ জুন জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শে সারাদেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউনে’র সুপারিশ করা হয়। কমিটির সুপারিশের আলোকে ২৮ জুন থেকে ৩০ জুন তিন দিন সীমিত পরিসরে বিধিনিষেধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী শুরু হয় কঠোর বিধিনিষেধ। এর আওতায় বন্ধ করা হয় গণপরিবহন চলাচল।

উল্লেখ্য, এবারের ঈদে ক্যাম্পের বাইরে বের হতে পারবে না মিয়ানমার থেকে উঠে আসা রোহিঙ্গারা। এজন্য এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি জোরদার করেছে সরকার। সম্প্রতি র‌্যাবসহ কয়েকটি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও স্থানীয়দের রক্ষা, মানব ও মাদক পাচার প্রতিরোধে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প এলাকা থেকে বাইরে বের হতে দেয়া হবে না। তারা নিজেরা দ্বন্দ্ব সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ছাড়াও চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ স্থানীয় বাংলাদেশি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা করছে। ক্যাম্প এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা নিয়েও আইন-শঙ্খলা বাহিনী উদ্বিগ্ন।

ফেসবুকে লাইক দিন