বাবরি মসজিদের জায়গায় বাবরি মসজিদই থাকবে, অন্য কিছু মেনে নেওয়া হবে না: হেফাজত

ইমান টোয়েন্টিফোর ডটকম: ১৫২৮ সালে ভারতের অযোধ্যায় বাদশাহ বাবর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ যেখানে ছিল সেখানেই পুন: প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ১৯৯২ সালে একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদি জঙ্গী গোষ্ঠির নেতৃত্ব দিয়ে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদকে শহীদ করেছিল। আজ ২০১৯ সালে সেই মোদি সুপ্রিম কোর্টের উপর প্রভাব বিস্তার করে হিন্দুত্ববাদকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে মুসলিম জাতির ঐতিহ্যের প্রতীক ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদকে বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে উৎখাত করে, সেখানে তথাকথিত রাম মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত মুসলিম জাতির উপর লজ্জাজনকভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই বিতর্কিত ও অন্যায় সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। বাবরি মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষায় অযোধ্যা অভিমুখে প্রয়োজনে ১৯৯৩ সালের মতো আবার লং মার্চ করা হবে।

আজ বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলপূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে হেফাজতের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

ঐতিহ্যবাহী বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতিবাদে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর মিছিল পূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ৫০০ বছরের পুরাতন মসজিদকে ১৯৯২ সালে দুষ্কৃতকারীরা শহীদ করে দিয়েছে। ভারত সরকারের প্রয়োজন ছিল, এই মসজিদকে নিজ স্থানে পুন:নির্মাণ করে দেওয়া। কিন্তু তা না করে ভারত সরকার ষড়যন্ত্রমূলক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। আমরা পরিষ্কার বলে দিতে চাই, বাবরি মসজিদের জায়গায় বাবরি মসজিদই থাকবে, অন্য কিছু মেনে নেওয়া হবে না। ২০০ কোটি মুসলমানরা বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দিরের সিদ্ধান্ত মেনে নিবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের সরকার হিসেবে বাবরি মসজিদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকারীভাবে প্রতিবাদ করা। এবং বর্তমান সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করা। অন্যথায় এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নাই।

ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমীর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা মাহফুজুল হক, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, ড. ঈসা শাহেদী, অধ্যাপক আব্দুল করীম, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা মামুনুল হক।

আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমদ, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা মোস্তফা তারিকুল হাসান, মুফতি আব্দুস সাত্তার, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মুফতি শরীফুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল খালেক শরীয়তপুরী, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আবু তাহের জেহাদী, মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মাওলানা সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

ফেসবুকে লাইক দিন