বাংলাদেশে আল কায়দার উপস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও বাস্তবতা

ইমান২৪.কম: বাংলাদেশে আল কায়েদার উপস্থিতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে যে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে তা স্বীয় স্বার্থগত অবস্থান থেকে নিঃসৃত।

সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটার দরুন বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে – এমনটা ভেবে বিরোধী দল পুলকিত। অন্যদিকে এ ধরনের বক্তব্য ও প্রচারণা ক্ষমতার জন্য কোন আন্তর্জাতিক হুমকি তৈরী করতে পারে- এমনটা ভেবে সরকার আগের মতই এটাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

আমরা অতীতে দেখেছি ‘জঙ্গিবাদে’র অস্তিত্বের দাবী বা অস্বীকৃতি সরকার ও বিরোধী দলের একটা রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি ছিলো , বিষয়টি ক্ষমতাহীন বা ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক স্বার্থের আপেক্ষিক চিন্তা দ্বারা বিবেচিত, বাস্তবমুখী চিন্তা দ্বারা নয়।

আসলেই কি বিষয়টি কোন স্থূল রাজনৈতিক বিষয় নাকি গভীর ও সুদূরপ্রসারী কোন নীলনকশার অংশ? আমরা মনে করি বৈশ্বিক রাজনীতি নব্য সাম্রাজ্যবাদী রূপকল্প দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এখানে মুসলিম দেশের আভ্যন্তরীণ নিম্নমানের রাজনীতির মেরুকরণগুলো কোন পাত্তা পাওয়ার বিষয় না। বাংলাদেশের জনগণকে এবং আরো স্পেসিফিক করে বললে, এতদঞ্চলের মুসলমানদেরকে রাজনীতির নানা সস্তা পর্যবেক্ষণ ও স্থূল অবস্থান বাদ দিয়ে রিয়েলিটির জায়গা থেকে ভাবতে হবে যে,গ্লোবাল সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক দোসরদের জন্য দেশীয় রাজনীতির নানা মেরুকরণের চাইতে ইসলামের প্রশ্নটাই মৌলিক।

মাইক পম্পেও তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন;
Imagine too the potential to completely upend fragile places with an established al-Qaida presence like Libya, Yemen, and the Maghreb, or increase turmoil in places like Bangladesh, where al-Qaida cells have carried out attacks.
[কল্পনা করুন লিবিয়া, ইয়েমেন এবং মাগরেবের মতো সম্পূর্ণরূপে ভঙ্গুর স্থানগুলির সম্ভাব্য উত্থান যেখানে আল-কায়েদার উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত, বা বাংলাদেশের মতো অশান্তি বৃদ্ধি পাওয়া জায়গাগুলিতে যেখানে আল-কায়েদার চক্রগুলো আক্রমণ চালিয়েছিলো।]

আমরা অ্যামেরিকার নীতিনির্ধারকদের প্রতি বাংলাদেশের মুসলমানদের পক্ষ থেকে অতি স্পষ্ট ভাষায় একটা বার্তা দিতে চাই, তা হলো ;

১.বাংলাদেশের ইসলামের মূলশক্তির চরিত্র হলো সামাজিক ,প্রধান এ সামাজিক শক্তি দ্বারা আমাদের জাতীয় নীতি প্রভাবিত। মার্কিন স্ট্যেট ডিপার্টমেন্টের বাংলাদেশস্থ দূত মিস্টার ডগলাস ম্যাকিগকে এ বার্তা বহু পূর্বে দেয়া হয়েছে।

সুতরাং ইসলামের বৃহত্তর ধারাকে ভুঁইফোঁড় মনে করে বাংলাদেশ কেন্দ্রিক কোনধরনের আরোপিত মার্কিন পলিসি, ও অবজারভেশনে কাম্য নয়, যা বৃহত্তর ইসলামি সেন্টিমেন্টের সাথে সাংঘর্ষিক।

২. বাংলাদেশে ইসলামের মূলধারা তাদের প্রিয় নবীজির আদর্শে পুরোপুরি আস্থাশীল, সুতরাং Rnd কর্পোরেশনের অঙ্কিত নানা স্তরবিন্যাস – লিবারেল, রেডিক্যাল, মোডারেট ও ট্রেডিশনাল – দ্বারা বিভক্ত মার্কিন পলিসি কোন স্থায়ী ফলাফল দেবে না। এধরনের ছবি শুধু কল্পনার জগতে বা শহুরে সংস্কৃতির বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত অংশে আংশিক কল্পনা করা গেলেও মূল জনস্রোতে পাত্তা পাবে না।

৩.অ্যমেরিকার সাথে বাংলাদেশের ইসলামপন্থার সরাসরি ডায়ালগের দরজা খোলা থাকবে, তবে পার্শ্ববর্তী আঞ্চলিক কোন দেশের মধ্যস্থা ও সহয়তায় ইসলামকে ফাংশন করার ক্ষেত্রে কেবল অসুবিধাই তৈর করবে।

৪. অ্যমেরিকার ইসরাঈল নীতির কারণে বাংলাদেশের মুসলমান গ্লোবাল মুসলিমের অংশ হিসেবে এ বিষয়ে অভিন্নভাবে ব্যাথিত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক চরিত্র সীমাবদ্ধ, যার কোন সামরিক ছবি কার্যকরভাবে দৃশ্যমান নয়। এবং এতদঞ্চলের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য কঠিন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তা সহজও নয়।

এত স্পষ্ট বার্তার পরেও আগামীতে মার্কিন পলিসি যদি ‘গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধানোর’ দিকে গড়ায় তাহলে এ অঞ্চলের মুসলমানরাও বৃটিশবিরোধী ওয়াহাবি আন্দোলনকে আরেকবার স্মরণ করবে, এ প্রজন্ম হয়তোবা ভুল করলেও পরবর্তী প্রজন্ম ভুল করবে না।

ফেসবুকে লাইক দিন