🌿বর্তমান সময়ে নাস্তিক মুরতাদদের শাস্তি কিরুপ হওয়া উচিত?🌿

এর জবাব তো সুস্পষ্টই। মুরতাদ যেহেতু আল্লাহ ও তার রাসূল(সাঃ)এর সাথে যুদ্ধ ঘোষনাকারী ও ভূপৃষ্ঠে অনাচার বিস্তারকারী এজন্য তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড, যা কার্যকর করা সরকারের উপর ফরজ।

আল্লাহ তায়ালা পবিএ কুরআনে বলেন—
يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ۚ ذَٰلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا ۖ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ

যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করে (অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়) তাদের শাস্তি এই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক হতে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ হতে নির্বাসিত করা হবে।[1] ইহকালে এটাই তাদের লাঞ্ছনা ও পরকালে তাদের জন্য মহাশাস্তি। (সূরা আল মায়েদাঃ৩৩)

> উক্ত আয়াত অবতীর্ণের কারণ এই যে, উকল বা উরাইনা গোত্রের কিছু লোক মুসলমান হয়ে মদীনায় আগমন করে এবং মদীনার আবহাওয়া তাদের স্বাস্থ্যের প্রতিকূল হয়। অতঃপর নবী (সাঃ) তাদেরকে মদীনার বাহিরে যেখানে সাদাকাহর উট ছিল সেখানে পাঠিয়ে দেন, সেখানে তারা উটের প্রস্রাব ও দুধ পান করবে, তাতে আল্লাহ আরোগ্যদান করবেন।

সুতরাং কিছু দিনের মধ্যেই তাদের অসুখ ভালো হয়ে গেল। কিন্তু তারপর তারা উটের রাখালকে মেরে ফেললো এবং উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলে গেল।

যখন রসূল (সাঃ)-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছল, তখন তিনি সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-কে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে তাদেরকে উট সহ ধরে আনার নির্দেশ দিলেন। (অতঃপর তাদেরকে পাকড়াও করে রসূল (সাঃ)-এর সামনে পেশ করা হল।) নবী (সাঃ) তাদের হাত-পা কেটে ফেলা এবং চোখে গরম শলাকা ফিরানোর নির্দেশ দিলেন। (কেননা তারাও রাখালদের সাথে অনুরূপ আচরণ করেছিল।)

অতঃপর তাদেরকে রৌদ্রে রাখা হল, ফলে তারা ধড়ফড় করে মৃত্যুবরণ করল। সহীহ বুখারীতে এই শব্দ সহ বর্ণিত হয়েছে যে, তারা চুরিও করেছিল, হত্যাও করেছিল, ঈমান আনার পর কুফরীও করেছিল, আর আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সাঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধও করেছিল।

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন—
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ ۖ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ

 

তবে তোমাদের আয়ত্তাধীনে আসার পূর্বে যারা তওবা করবে (তাদের জন্য) জেনে রাখ যে, আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।(সূরা আল মায়েদাঃ৩৪)

> অর্থাৎ যে ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তওবা করে ইসলামী শাসনের আনুগত্যের কথা ঘোষণা করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে আর ইসলামী দন্ড-বিধি তার উপর প্রয়োগ করা হবে না।

কিন্তু তা সত্ত্বেও উলামাগণের মধ্যে এ ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে, যেমন কোন ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল অথবা ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করল অথবা কারো মান-ইজ্জত হরণ করল, তাহলে কি এই অপরাধগুলি ক্ষমা হয়ে যাবে অথবা তার প্রতিশোধ গ্রহণ করা যাবে?

কোন কোন উলামার উক্তি হচ্ছে, ক্ষমা হবে না; বরং প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে। ইমাম শাওকানী (রঃ) ও ইমাম ইবনে কাসীর (রঃ) গণের উক্তি হচ্ছে, আয়াতের বাহ্যিক শব্দ দ্বারা এটা জানা যাচ্ছে যে, সমস্ত শাস্তিই তার উপর থেকে উঠে যাবে। কিন্তু হ্যাঁ ! যদি গ্রেফতার হওয়ার পর তওবা করে, তাহলে তার অপরাধ ক্ষমার যোগ্য হবে না; বরং সে শাস্তির উপযুক্তই থাকবে। (ফাতহুল ক্বাদীর, ইবনে কাসীর)

অপর দিকে আল্লাহর রাসূল(সাঃ)বলেছেন—-
من بدل دينه فاقتله
যে তার ধর্ম (ইসলাম) পরিবর্তন করে তাকে হত্যা কর।
-সহীহ বুখারী,হাদীসঃ৬৯২২)

অন্য হাদীসে আছে, একবার মুআয (রাঃ) আবু মূসা আসআরী (রাঃ)- এর সাথে সাক্ষাত করতে এলেন, (তারা উভয়ে ঐ সময় ইয়ামানে আল্লাহর রাসূলের পক্ষ হতে দায়িত্বশীল হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন) মুআয (রাঃ) দেখলেন, এক লোককে তার কাছে বেঁধে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসা করলেন কী ব্যাপার? আবু মুসা আশআরী (রাঃ) বললেন, এ লোক ইহুদী ছিল, ইসলাম গ্রহন করেছিল, আবার ইহুদী হয়ে গেছে। আপনি বসুন।মুআয(রাঃ)বললেন, একে হত্যা করার আগ পর্যন্ত আমি বসব না। এটিই আল্লাহ ও তাঁরর রাসূলের ফয়সালা।তিনি একথা তিনবার বললেন। সে মতে ঐ মুরতাদকে হত্যা করা হল।

বিশেষত যে নাস্তিক মুরতাদ আল্লাহর রাসূল (সাঃ) সম্পর্কে কটুক্তি করে কিংবা ইসলামের নিদর্শনের অবমাননা করে সে তো সরাসরি “মুফসিদ ফিল আরদ” (ভূপৃষ্ঠে দুষ্কৃতকারী)। এ ব্যক্তি রাসূল(সাঃ)অবমাননাকারী হিসেবেও “ওয়াজিবুল ক্বতল” (অপরিহার্যভাবে হত্যাযোগ্য) এবং দুষ্কৃতিকারী।

সূতরাং বর্তমান সময়ে যত নাস্তিক মুরতাদ আছে তাদের শাস্তিও উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস অনুযায়ী হবে।

লেখকঃ মাওলানা আরিফুল ইসলাম

ফেসবুকে লাইক দিন