বজ্রাঘাতে দুই দিনে ৩৬ জনের মৃত্যু

বজ্রাঘাতে গতকাল সারাদেশে সর্বমোট ২২ জনের পর আজ আবারও এই পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে চার জন, জামালপুরে দুই জন, পাবনায় একজন, মৌলভীবাজারে দুই জন, রাজশাহীতে দুই জন, হবিগঞ্জে একজন, কুমিল্লায় একজন ও রাজবাড়ীতে একজনসহ মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ সোমবার ৩০ ‘এপ্রিল তারা মারা যান।

এদিকে আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। তবে তা হবে সাময়িক সময়ের জন্য।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন ভারী বর্ষণ হলেও দেশে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই ।

তবে গত কয়েক বছর যাবত অতিরিক্ত বজ্রপাত ও বজ্রাঘাতে মানুষের প্রানহানি সাধারন মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এছারা এবছর শুরু থেকেই অতিরিক্ত শিলাবৃষ্টিতে ফসল এবং ফলের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে।

বাংলাদেশ দুর্যোগ ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বজ্রাঘাতে ২৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালেও মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছিল। ২০১০ থেকে গত ছয় বছরের হিসাব বলছে, একেবারেই নজর না দেওয়া এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা প্রায় এক হাজার।

বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসে কার্বনের পরিমাণ ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। রাজধানীতে এলাকাভেদে প্রতি ঘনমিটারে ৬৬৫ থেকে ২৪৫৬ বা তারও বেশি মাইক্রোগ্রাম পাওয়া গেছে। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ঢাকায় বেশি বজ্রপাত হতে দেখা গেলেও বজ্রপাতের ভয়াবহতা টের পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুতের লম্বা খুঁটি মানুষের উচ্চতার অনেক ওপরে থাকায় আর খুঁটির সঙ্গে আর্থিংয়ের ব্যবস্থা থাকার কারণে শহরাঞ্চলে বজ্রপাত থেকে প্রাণহানির ঘটনা কম হচ্ছে।

গত পাঁচ বছরের মৃত্যু ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফাঁকা মাঠে কৃষিকাজ, মাছ ধরা, হাওরাঞ্চলে নৌকায় যাতায়াতের সময় বজ্রঘাতের শিকার হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা বেশি।

তাই গ্রামাঞ্চলে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে, কোনও বিকল্প ছাড়া বড় বড় গাছ ধ্বংস করা বন্ধ করতে হবে। গ্রামে আগে গাছ থাকায় সেগুলো বজ্রপাত ঠেকাতো। এছাড়া, অরক্ষিত হয়ে পড়া গ্রামাঞ্চলের মসজিদের মিনারে আর্থিং করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেহেতু বাংলাদেশের হাওর অঞ্চল, দেশের বিল অঞ্চল আর উত্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুরে বজ্রাঘাতে প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটে সে কারণে এসব অঞ্চলে মোবাইল ফোনের টাওয়ার লাইটেনিং এরস্টোর লাগানোর কাজটিও করা যেতে পারে। এছারা দীর্ঘমেয়াদের কথা ভাবতে গেলে তাল বা খেজুরগাছ লাগানো যেতে পারে। কিন্তু এসবের সুফল স্বল্পমেয়াদে পাওয়া যাবে না।

আরও পরুনঃ ‘বর্তমানে দেশে কোনও লোডশেডিং নেই’: বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস

ফেসবুকে লাইক দিন