বছরের শুরুতেই পাওনার চেয়ে কম পরিমাণ পানি দিয়েছে ভারত

ইমান২৪.কম: ফারাক্কা ব্যারাজ দিয়ে বরাবরের মতো এবারও প্রথম শুকনো মওসুমের শুরুতে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশকে পাওনার চেয়ে কম পরিমাণ পানি দিয়েছে ভারত। যৌথ নদী কমিশনের হিসাবমতে, ইন্ডিকেটিভ সিডিউল অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশকে গড় প্রবাহের চেয়ে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম দশ দিন পর্যন্ত মোট চারটি কিস্তিতে ৪৮,৩৫৯ কিউসেক পানি কম দেয়া হয়। এ সময়ে বাংলাদেশ পাওয়ার কথা ২,২১,৬৬৬ কিউসেক পানি। কিন্তু পেয়েছে ১,৭৩,৬০৪ কিউসেক পানি।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গা চুক্তি সম্পাদিত হয়। সেইমতে প্রতিবছর জানুয়ারি ১ তারিখ থেকে দু’দেশের পানিবণ্টন কার্যক্রম শুরু হয় যা মে মাস পর্যন্ত চলে। তার ধারাবাহিকতায় এবারের পানিবণ্টন কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে। চুক্তির আওতায় এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত যৌথ নদী কমিশন কর্তৃক বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টনসম্পর্কিত পাওয়া তথ্য উপাত্তে দেখা গেছে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি প্রথম দশ দিন পর্যন্ত চারটি কিস্তির প্রতিটিতে বাংলাদেশ পানি কম পেয়েছে ইন্ডিকেটিভ সিডিউল অনুযায়ী।

এ হিসাবে এ পর্যন্ত চারটি কিস্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ৪৮,৩৫৯ কিউসেক পানি কম পেয়েছে। এবারে চলতি মাসের ১ থেকে ১০দিনে চুক্তির ইন্ডিকেটিভ সিডিউল অনুযায়ী বাংলাদেশ ফারাক্কা পয়েন্টে পাওয়ার কথা রয়েছে ৬৭,৫১৬ কিউসেক পানি কিন্তু বাংলাদেশ পেয়েছে ৬১,০২৪ কিউসেক। হিসাব মতে, এই দশ দিনে ভারত ৬,৪৯২ কিউসেক পানি কম দিয়েছে বাংলাদেশকে। তবে দেশটি চুক্তির সংলগ্নি-১ এর বণ্টন ফর্মুলা মেনে এ পরিমাণ পানি দেয়। অপর দিকে, দ্বিতীয় দশ দিনে পানি আরো কমেছে। জানুয়ারির দ্বিতীয় দশ দিনে বাংলাদেশ পাওয়ার কথা ছিল ৫৭,৬৭৩ কিউসেক পানি।

কিন্তু বাংলাদেশ এই দশ দিনে আরো বেশি পানি কম পেয়েছে। এই দশ দিনে বাংলাদেশ ১৫,০৯৩ কিউসেক পানি কম পেয়েছে। তবে চুক্তির সংলগ্ন-১ এর বণ্টন ফর্মুলা অনুযায়ী বাংলাদেশ পেয়েছে ৪২,৫৮০ কিউসেক পানি। অপর দিকে, জানুয়ারির শেষ দশ দিনে অর্থ্যাৎ ২১ থেকে ৩০ পর্যন্ত এই দশ দিনে পাওয়ার কথা ছিল ৫০,১৫৪ কিউসেক পানি, কিন্তু পেয়েছে ৩৫,০০০ কিউসেক। এই সময়ে প্রায় ১৫,১৫৪ কিউসেক পানি কম দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ফেব্রুয়ারির প্রথম দশ দিনে বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিল ৪৬,৩২৩ কিউসেক পানি। বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৫,০০০ কিউসেক। এতে করে বাংলাদেশ কম পেয়েছে ১১,৩২৩ কিউসেক পানি। ফারাক্কা পয়েন্টে পানি না থাকায় বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ বাড়তে পারছে না। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের নদ-নদীগুলো।

পদ্মার বুকে চরের পর চর পড়ে চলেছে। গত অর্ধশতাব্দীতে বাংলাদেশের অন্তত ৬শ’ নদ-নদী প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে শুকনো মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো অনেকটা মরুভূমিতে পরিণত হয়। আবার বর্ষায় ফারাক্কার সব গেট খুলে দিলে হঠাৎ ফুঁসে উঠে পদ্মা। ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাড়িঘর, ফসলসহ সবকিছু।

আরও পড়ুন: বন্ধ হচ্ছে গাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস!

স্কুল-কলেজের ছাত্রদের চুলে রঙ ও বিশেষ ছাঁটে নিষেধাজ্ঞা

ফেসবুকে লাইক দিন