বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে রাজধানীর বুকেই

ইমান২৪.কম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর স্থাপন করার বিষয়ে আলোচনা হয়ে আসছে। কিন্তু কোথায় হবে এই বিমানবন্দরটি সে বিষয়ে কোন তথ্য জানা যায়নি। অবেশষে জানা গেল ঢাকা বিভাগেই নির্মিত হতে যাচ্ছে বিমানবন্দরটি। তবে ঠিক কোথায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকার কাছাকাছি মাদারীপুর বা শরীয়তপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়ার কথা ছিল।

তবে ঢাকার আশপাশে এ বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আবার জমি খোঁজার কাজ শুরু করেছে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোয়েইকে নতুন জমি নির্বাচন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিপ্পন এবার ঢাকার আশপাশে এ প্রকল্পের জন্য জমি নির্বাচন করবে। ঢাকার পাশে আগে যেসব স্থান খোঁজা হয়েছে সেগুলো নিয়ে এবং নতুন স্থান নির্বাচন করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ শিগগিরই বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র। বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেন, এ ধরনের বিমানবন্দর (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) নির্মাণ অনেক দিক বিবেচনায় রাখতে হয়। সার্বিক বিবেচনায় মাদারীপুর বা শরীয়তপুরের বদলে ঢাকার আশপাশে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্যে জমি খোঁজা হচ্ছে। মহিবুল হক বলেন, খাস জমির সংকট ও ঘনবসতিতে হাজার হাজার মানুষ ও তাদের বাড়িঘর উচ্ছেদকে বাধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিপ্পন কোয়েই লিমিটেড ২০১৫ সালের জুলাই থেকে জাজিরা ও শিবচরে প্রকল্পের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করে। আগামী জুনের মধ্যে ১৩৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সব কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এর আগেই সম্প্রতি জাপানি এই প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন জমা দেয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১২০ কোটি টাকা।এরইমধ্যে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নিপ্পন কোয়েইকে নতুন জায়গা বের করতে বলেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

এর আগের সম্ভাব্য চারটি জায়গা: বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য চারটি স্থানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের খবর শোনা গিয়েছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া সেই চারটি স্থান হলো, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চর জানাজাত, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ও লতব্দি। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে ঢাকার দোহারের চর বিলাসপুর। বিমান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রাথমিক তালিকায় ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার চর বিলাসপুর, ঢাকার পাশ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন, জেলার লতব্দি, গজারিয়া ছিল। এছাড়াও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চর জানাজাত ও রাজৈর, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাঘিয়ার বিল এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল।

ফেসবুকে লাইক দিন