ফেল করাতে বাচ্চাদের কোনো দোষ নেই এটা অভিভাবকের দোষ

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যয়ের কারণ হচ্ছে শিক্ষকের স্বল্পতা এবং নিবেদিত শিক্ষকের অভাব। আমাদের ছাত্ররা অন্যান্য দেশের তুলনায় অত্যন্ত মেধাবী । আমাদের দেশে ভালো ছাত্রের কোন অভাব নেই কিন্তু ভালো শিক্ষকের বড়ই অভাব। খারাপ ফলাফলের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মহত্যার বিষয় নিয়ে আলাপকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মীজানুর রহমান আমাদের অর্থনীতিকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেইল করছে। ফেল করাতে বাচ্চাদের কোন দোষ নেই, এটা অভিভাবকের দোষ। অভিভাবকরা মনে করেন, জিপি এ ফাইভ বা পরিক্ষায় পাশ এগুলোই জীবনের চূড়ান্ত পর্যায়। রেজাল্ট ভিত্তিক মনোভাব থেকে অভিভাবকদের বেরিয়ে আসতে হবে। তা নাহলে কিন্তু আত্মহত্যার পরিমাণ দিন দিন বাড়তে থাকবে। ৩০ শতাংশ একটু বেশি হয়েছে, তবে ১৬ ভাগ ফেইল অবধারিত। সমাজে ১৬ ভাগ লোক থাকে যাদেরকে বলা হয় পশ্চাৎপদ । তারা সমাজে নতুন কিছুর সাথে সহজেই মানিয়ে উঠতে পারে না, একটু সময় লাগে। মা-বাবা রা ছেলে মেয়েদের উপর যে পরিমান চাপ সৃষ্টি করে, বাচ্চাদের জীবন একেবারে অতিষ্ট করে ফেলছে। এত চাপের মাঝেও ফেল করা শিক্ষার্থিরা যে বেচে আছে সেটাই বেশি। মা-বাবারা বাচ্চাদের পেছনে যেভাবে লাগছে, মনে করি আরো বেশি মরে যাওয়ার কথা ছিল ।

ড. মীজানুর রহমান বলেন, এত শিক্ষার্থী কেন ফেইল করে তা আমাদের সকলের কাছেই স্পষ্ট। স্কুল বা কলেজে কোন ভালো শিক্ষক নেই। দেশে এত টাকা পয়সা খরচ করে বিভিন্ন বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া তৈরি হচ্ছে, অথচ মূল জায়গায় নজর দেওয়া হচ্ছে না। স্কুল, কলেজে ভালো শিক্ষক নেই, ভালো শিক্ষক তৈরির কোন ব্যবস্থা নেই। যেখানে ৮টি কোর্স সেখানে শিক্ষক মাত্র তিন জন। ইংরেজি শিক্ষক নেই, ফিজিক্সের শিক্ষক ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। এটাই হলো আমাদের দেশের স্কুল, কলেজের নমুনা। আইসিটির শিক্ষক নাই অথচ কলেজ একটি খুলে বসে আছে, মাল্টি মিডিয়া ক্লাস নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনতিবিলম্বে দেশের যে সকল শিক্ষকের পোষ্ট খালি আছে তা নিয়োগ দিয়ে ঘাটতি পূরুণ করা উচিত। শিক্ষকদের ভালো প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিটা অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। সেখানে এমপি সাহেবরা স্কুলগুলো পরিচালনার দায়িত্ব দেন নিজেদের কাছের লোকদের । তারা টাকা খেয়ে অযোগ্য লোকদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ সমস্যা সমাধানে একটি শিক্ষা সার্ভিস কমিশন হওয়া উচিত। যারা শিক্ষক হবেন সেই শিক্ষদের পরিক্ষা নেওয়া হবে। আর যে সকল স্কুলে শিক্ষক প্রয়োজন, তারা শিক্ষা সার্ভিস প্যানেলের নিকট চিঠি পাঠাবেন এবং সার্ভিস কমিশনের প্যানেল সেখানে উপযুক্ত শিক্ষক পাঠাবেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় যে সৃজনশীল নামে একটি নতুন কারিকুলাম আসছে তা হয়ত শিক্ষার্থীরা আয়ত্বে আনতে পারবে কিন্তু একটু সময় লাগবে। কতগুলো লোক যারা চাকরি করে না এবং কোন চাকরি করার যোগ্যতাও তাদের নেই। তারা কয়েকজনে মিলে একটি স্কুল বা মাদ্রাসা টাইপের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠাণ দাড়িয়ে যায় এবং অযোগ্য লোক গুলো হয় পরিচালক এবং শিক্ষক। তারাই এক সময় তাদের স্কুল বা মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তাদেরকে তো কেউ স্কুল-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য বলে নাই! বিভিন্ন মাদ্রাসা এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, এগুলোকে অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। এত পরিমান স্কুল-মাদ্রাসা দরকার নাই। যেগুলো আছে সেগুলোতেই সমভাবে শিক্ষার্থি বণ্টন করে দেওয়া উচিত।

ফেসবুকে লাইক দিন