ফেনীতে এক গৃহবধূর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, আটক ১

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় এক গৃহবধূর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে তার স্বামী। অর্ধউলঙ্গ করে কোমরে শিকল বেঁধে টানা চার দিন গৃহবধূ তাহেরা আক্তার রিনাকে (২৪) অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধর করে স্বামীর প্রস্রাব জোর করে পান করতে বাধ্য করা হয়েছে তাকে। চিৎকার করায় কেটে দেয়া হয়েছে তার মাথার চুল।

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর গ্রামের তার স্বামীর বাড়ি হাজারি বাড়ি থেকে কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় তাহেরা আক্তার রিনাকে উদ্ধার করে পুলিশ। এদিন রাত ১০টার দিকে নির্যাতনকারী স্বামী মঞ্জুর আলম বাদল হাজারিকে (৪৫) ওই এলাকা থেকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল হায়দার চৌধুরী জুয়েল।

রাতে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা করেছেন। সোমবার ফেনীর আদালতে পাঠানো হয়েছে মঞ্জুর আলম বাদল হাজারিকে। মঞ্জুর আলম বাদল হাজারি উত্তর হরিপুর গ্রামের মৃত নজির আহমদ হাজারির ছেলে। নির্যাতনের শিকার তাহেরা আক্তার রিনা ফেনী সদরের কাতালিয়া গ্রামের মৃত আমিনুল এহসান ওরফে বাবুল ডাক্তারের মেয়ে।

এএসপি (ছাগলনাইয়া- পরশুরাম সার্কেল) নিশান চাকমা রাতেই থানায় এসে ভিকটিম এবং আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। গৃহবধূ সাংবাদিকদের বলেছেন, বাদলকে প্রথম দেখায় তার পছন্দ হয়নি। তাকে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়েছে।

তাকে এ অমানুষিক নির্যাতনের পেছনে তার মা এবং ভাইয়ের হাত রয়েছে বলে তার দাবি। মামলার এজাহারে তাহেরা আক্তার রিনা বলেছেন, ২০১৭ সালে ২৩ মার্চ তার মা বিবি ফাতেমা এবং ভাই রেজাউল করিম রাজু সামাজিকভাবে কাউকে না জানিয়ে তাকে ফেনীর লস্করহাট এলাকায় তার ফুফাতো বোনের স্বামীর বাড়িতে নিয়ে মঞ্জুর আলম বাদল হাজারির সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, বাদল এর আগেও দুই বিয়ে করেছেন এবং দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে নানা ছুতোয় তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

ফেসবুকে লাইক দিন