ফুরফুরা শরীফে ওয়াইসি: বললেন পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে লড়বেন পীরজাদার নেতৃত্বে

ইমান২৪.কম: ভারতের মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির নেতৃত্বে নির্বাচনে লড়াই করা হবে। তিনি (রোববার) এক আকস্মিক সফরে পশ্চিমবঙ্গের ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের রূপরেখা সম্পর্কে আলোচনা করেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওয়াইসি বলেন, ‘আমাদের পার্টি এমআইএমকে প্রতিষ্ঠা করব এবং বাংলায় নির্বাচনে লড়াই করব।’

রাজ্যে কী দলের পক্ষে আব্বাস সিদ্দিকিই মুখ? এই প্রশ্নের জবাবে ওয়াইসি বলেন, ‘আব্বাস সিদ্দিকি সাহেব আমাদের সম্মানীয়। আমরা তাঁকে বড় বলে মনে করে থাকি। তাঁর সঙ্গে থেকে আমরা নির্বাচনে লড়ব।’ তৃণমূলের পক্ষ থেকে ‘মিম’ পার্টিকে বিজেপি’র ‘বি-টিম’ বলে অভিহিত করা প্রসঙ্গে ওয়াইসি বলেন, ‘এটা মিথ্যে অভিযোগ। যখন গুজরাট জ্বলছিল তখন মমতা (তৃণমূল প্রধান) কোথায় ছিলেন? এখানে বিজেপি’র ১৮ জন এমপি জয়ী হয়েছে? কীভাবে তাঁরা জিতলেন?’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে ওয়াইসি বলেন, ‘আপনারা তো এখানে বিজেপিকে রুখতে পারছেন না। এত লোক তাঁর দল থেকে পালিয়ে যাচ্ছে বিজেপিতে, তাঁরা কী আমাদের জিজ্ঞেস করে গেছে নাকি? এটা তো ওনাকে বলতে হবে কেন এসব লোকেরা তৃণমূল ছেড়ে চলে যাচ্ছে।’

বাংলায় অনুন্নয়ন, দুর্বল শ্রেণীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, অংশীদারিত্ব ইত্যাদি নির্বাচনে ইস্যু হবে বলেও ‘মিম’ প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের সিনিয়র নেতা অধ্যাপক সৌগত রায় এমপি বলেন, ‘আসাদউদ্দিন ওয়াইসি যে পশ্চিমবঙ্গে আসবেন তা আগেই ঘোষণা করেছিলেন। আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে বৈঠকটি নতুন বিষয়। হয়তো ওয়াইসি বুঝতে পেরেছেন বাংলায় ওনার কোনও প্রভাব খাটবে না। তার কারণ বাংলায় উর্দুভাষী মুসলিমের সংখ্যা কম। উনি এখন ফুরফুরার পীর সাহেবের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তবে আমার মনে হয় এতে সামগ্রিক কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ মানুষ বোঝে ওয়াইসি বিজেপির হয়ে ‘ভোট কাটা’র দায়িত্ব পালন করেন। অমিত শাহের (বিজেপি নেতা) নির্দেশে চলেন। তাঁকে সমর্থন করা মানে শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে সমর্থন করা।’

অধ্যাপক সৌগত রায় আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিরাপদ রয়েছে ও ভালো রয়েছে। আমার বিশ্বাস এবং আশা তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে থাকবেন। আমি বাংলার মুসলিমদের আহ্বান করছি ওয়াইসিকে সামগ্রিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে।’

এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এতদিন খান, ওয়াইসি, কুরেশীকে একা পকেটে নিয়ে ঘুরছিল। এখন আর একজন এসে গেছেন তাদের ভোটের জন্য। আসতেই পারেন। ভারতে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোট হয়। তারা পকেট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বলে ওদের খুব দুঃখ ও কষ্ট হচ্ছে। ওরা ভেবেছিল খান, ওয়াইসি, কুরেশীকে দিয়ে সরকার গড়বে। ২০২১ সালে রাজ্যে সরকার গড়বে ভারতীয় জনতা পার্টিই (বিজেপি)। কোনও খান, কোনও ওয়াইসি, কোনও কুরেশী, কোনও ‘ফুরফুরা শরীফ’ সরকার গঠন করবে না’ বলেও বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় মন্তব্য করেন।

এদিকে, ওয়াইসি আজ সকালে ফুরফুরা শরীফে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির পাশাপাশি পীরজাদা নৌশাদ সিদ্দিকি, পীরজাদা বাইজিদ আমীন, সাবির গফফারসহ সংখ্যালঘু মুসলিম নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়া সমীকরণের সৃষ্টি হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফেসবুকে লাইক দিন