লালমনিরহাটে একঘরে ৩ পরিবার, পড়তে দেয়া হয়নি ঈদের নামাজ

ইমান২৪.কম: লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ছেকনাপাড়া গ্রামে ফতোয়া দিয়ে তিন পরিবারকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই তিন পরিবারকে ঈদের নামাজও পড়তে দেয়া হয়নি।

নিরীহ ওই তিন পরিবারের বাড়িতে এলাকার অন্যান্য মানুষের প্রবেশ, কোনো প্রকার লেনদেন, দোকানপাটে কেনাবেচা এবং ক্ষেত-খামারে কোনো শ্রমিক কাজ না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা করার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তিন পরিবার ওই এলাকার মসজিদ কমিটি সদস্য আব্দুল মতিন ও ইমাম মাওলানা সহিদার রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিকেলে তারা লিখিত অভিযোগটি দেন।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ছেকনাপাড়া গ্রামে রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল মতিনের পরিবারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে আব্দুল মতিন ও ছেকনাপাড়া বাইতুল মাকাম জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সহিদার রহমান মিলে তিন পরিবারের লোকজনের ওপর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ফতোয়া জারি করেন।

রিয়াজুল ইসলাম (৭০), ইসাহাক আলী (৮৪) ও শতবর্ষী এমাদ উদ্দিন সরকারের পরিবারের ওপর এই ফতোয়া জারি করা হয়। ফতোয়ার শিকার বৃদ্ধ এমাদ উদ্দিন বলেন, ‘আমার বয়স ১০০ বছরের ওপর। এলাকার বাইতুল মাকাম জামে মসজিদের সভাপতি আমার ছোট ভাই। কিন্তু পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আব্দুল মতিনরা আমার পরিবারকে একঘরে করে রাখে।

এখন আমি এই বয়সে কার কাছে গিয়ে বিচার চাই?’ ফতোয়ার শিকার ইসাহাক আলী বলেন, ‘প্রভাবশালী আব্দুল মতিনের সঙ্গে আমার পূর্ববিরোধ ছিল। এর জেরে ছয় মাস আগে আমার পরিবারের ওপর ফতোয়া জারি করেন। এখন এলাকার লোকজন প্রভাবশালীর ভয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলে না। এমনকি মসজিদের চাঁদাও নেয় না। ঈদের নামাজ পড়তেও বাধা দেয়া হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ মসজিদের ইমাম মাওলানা সহিদার রহমান এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।’

ফেসবুকে লাইক দিন