প্রেমিকের হাতে খুন হলো কিশোরী; মোবাইলে অবৈধ প্রেমের যের

ইমান২৪.কম: মোবাইলে আলাপের মাধ্যমে গড়ে ওঠে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক আর পরিনামে সেই পাষন্ড প্রেমিকের হাতেই প্রথমে ধর্ষিতা ও পরে খুন হয়েছে কিশোরী পারভীন আক্তার (১৬)।

পারভীন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ওয়াহেদ আলীর মেয়ে আর তাঁর পাষন্ড প্রেমিক জহিরুল ইসলাম (৩৫) নেত্রকোনার দূর্গাপুর উপজেলার চারিগাঁও গ্রামের মৃত আঃ খালেকের ছেলে।

জানা যায়, পারভীন তার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হলে অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে গত ৩০ জুলাই তার বাবা কলমাকান্দা থানায় একটি জিডি করেন ও পুলিশকে মেয়ের মোবাইল নাম্বার দেন।

এদিকে, তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে নিখোঁজের তিন মাস পর এর রহস্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিখোঁজ পারভীনের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে কলমাকান্দা থানা পুলিশ গত বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে জহিরুল ইসলামকে ঢাকার রামপুরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

এরপর তাকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ কালে এক পর্যায়ে পারভীন নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত রহস্য পুলিশের সামনে খুলে বলে জহির।

জহির জানায়, পারভীন আক্তারের সাথে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে রং নাম্বারে ফোন কলের মাধ্যমে পরিচয় হয় তার। তারপর ফোনের মাধ্যমেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পারভীনকে বিয়ের কথা বলে গত জুন মাসের প্রথম দিকে জহিরুল তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাসায় রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে। পারভীন বিয়ের জন্য চাপ দিলে সুচতুর জহিরুল নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপন করতে থাকে।

একসময় পারভীন জহিরুলের আগের বিয়ে এবং তাদের সংসারে একটি সন্তানের বিষয়টি জানতে পারে। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে প্রচন্ড বাকবিতন্ডা ও অশান্তি শুরু হয়।

এক পর্যায়ে জহিরুল ঈদুল ফিতরের তিন দিন পর আগের বউকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়ে পারভীনকে ঢাকা থেকে রাতের আধারে তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

এরপর পারভীনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেয়। হত্যার পর গুমের উদ্দেশ্যে তাদের গ্রামের সামনে একটি নিচু জমিতে লাশ মাটির নিচে পুঁতে রেখে পরদিন আবার ঢাকায় চলে যায় জহিরুল।

ঘটনার প্রায় তিন মাস পর জহিরুল পারভীনের বন্ধ ফোনটি চালু করলে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান সনাক্ত করে বুধবার রাতে ফোনসহ তাকে গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার কলমাকান্দা থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জহিরুল এ লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন।

তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের চারিগাঁও থেকে মাটি খুড়ে ওই কিশোরীর ব্যবহৃত পোশাক ও মাথার চুল উদ্ধার করে। কিন্তু দেহাবশেষ এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের ধারণা মাটি খুড়ে ওই কিশোরীর লাশটি শিয়াল কুকুরে খেয়ে ফেলতে পারে।

কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গনমাধ্যমকে বলেন, এ ব্যাপারে নিহতের বাবা ওয়াহেদ বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত জহিরুল শুক্রবার নেত্রকোনা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

আরও পড়ুনঃ ইয়াবা সেবন ও বেপোরোয়া চলাফেরায় বাধা দেয়ায় মেয়ের হাতে মা খুন!

সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে গাছের সাথে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন, যে কারন জানা গেল

ফেসবুকে লাইক দিন