প্রধানমন্ত্রীর উপহার: ওঠার আগেই ভেঙে পড়ল ঘর, অনিয়মের অভিযোগ

ইমান২৪.কম: মাত্র ১৭ দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর এমন হাল দেখে হতবাক সবাই। বেশকিছু ভাঙাচোরা ঘর পড়ে আছে সেখানে আবার কোনোটি জোড়াতালি দিয়ে নতুন করা হচ্ছে। নির্মাণাধীন ঘরগুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে ব্যবস্থাপনায় ছিল বড় গরমিল। আশ্রয়কেন্দ্রটির বেহাল অবস্থা দেখে যে চোখ কপালে উঠার মতো। ঘর উঠার আগেই ভেঙে পড়ছে সেগুলো। ২০০ ঘর উদ্বোধন হলেও নির্মাণাধীন ঘর আছে ১৫০টি। তবে বাকি ৫০টি ঘরের নির্মাণ এখনো শুরুই হয়নি।

নিম্নমানের কাজের কারণেই নির্মাণাধীন অবস্থায়ই স্থাপনাগুলো ভেঙে পড়ছে বলে জানান এলাকাবাসী। উপকারভোগী এক নারী জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘর দিয়েছেন কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেটি আমরা হাতে পাইনি, দলিলও পাইনি এবং সেটি ভেঙে পড়েছে। আরেক নারী জানান, আমরা ঘর পাইনি আর সব ঘর ভেঙে গেছে। এক নির্মাণশ্রমিক জানান, আগে ঘরের নিচে বালু দেওয়া হয়েছিল, বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাওয়ায় সেগুলো ভেঙে পড়েছে। আগে যে ঠিকাদার ছিলেন তিনি এভাবে কাজ করেছেন এখন সে পালিয়েছে। প্রথম অবস্থায় ঘরগুলো নির্মাণ সঠিক না হওয়ায় এখন কমিটির মাধ্যমে মানসম্মত নির্মাণকাজ চলছে জানান মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হামিদুর রহমান।

তিনি বলেন, কোথাও হয়তো ভরাটকৃত মাটি পেয়েছিল, কোথাও হয়ত ভরাটকৃত মাটি পায়নি, কোথাও নিচু জমি ছিল, আবার কোথাও উঁচু করতে হয়েছে কাজের ধরনে এদিক-সেদিক হতে পারে। ভূমিহীন ও গৃহহীনকে স্থায়ী ঠিকানা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মহতি উদ্যোগ নিয়ে অনিয়মকারীদের রিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। তিনি বলেন, যারা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে অব্যবস্থাপনার আশ্রয় নিয়েছে ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়েছে তদন্তসাপেক্ষ আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। চার একর জমির ওপর প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এদিকে, উদ্বোধনের ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে ওঠেননি হিলির অনেক ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা।

পানি ও বিদুৎব্যবস্থা নেই, অল্প বৃষ্টিতে ডুবে যায় চলাচলের রাস্তা, ঘরে প্রবেশ করে পানি এমন অভিযোগ বসবাসরতদের। প্রসঙ্গত: আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী নির্মিত বাড়িগুলোতে অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠছে বছর না ঘুরতেই। কোথাও মাটি সরে গেছে আবার কোথাওবা বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। দেশের ২২ জেলার ৩৬ উপজেলায় এমন অভিযোগের দায়ে উপসচিব ও ইউএনও পর্যায়ের ৫ কর্মকর্তাকে ওএসডিও করেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ও প্রকল্পের নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো ছাড় নয়; যে কোনো মূল্যে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিচালিত এ প্রকল্প নিয়ে কেন গাফিলতি হচ্ছে? কারা দেখাচ্ছে এ দুঃসাহস! এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, দুর্ভোগজনক হলেও বেশকিছু জায়গাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে গেছে। উপজেলা পর্যায়ে বেশকিছু কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যেটা থাকা দরকার সেটাকে পরীক্ষা না করে করেছে।

তারা শৈথিল্য সেখানে দেখিয়েছে, আমরা কিন্তু সেটা দেখাব না। তিনি আরও বলেন, হ্যাঁ এটা আমাদের কাছে লজ্জার ব্যাপার যে প্রধানমন্ত্রী যেটাকে একেবারে ইবাদত হিসেবে নিয়েছেন সেই কাজটা করতে ব্যর্থ হই সেটা আমাদের ব্যর্থতা। আর আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। সে জন্য আমরা বলেছি এ ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স দেখাব। ছিন্নমূলদের আবাসন নিয়ে নয়ছয় করা কর্মকর্তারা শেষ পর্যন্ত চাকরি হারাতে পারেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আশ্বস্ত করছে, ছাড় দেওয়া হবে না কাউকেই। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের-২-এর পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, প্রতিটি বিষয় আমরা তদন্ত করেছি।

আর তদন্তের আলোকে যারা দায়ী হবেন সরকারি বিধি অনুসারে তাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। দেশব্যাপী নির্মিত এসব ঘর নিয়ে কারও অভিযোগ থাকলে তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় কিংবা জেলা প্রশাসকের দপ্তর এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন এ প্রকল্পের পরিচালক। ছিন্নমূল মানুষকে শান্তি দেওয়ার এই প্রকল্পে সারাদেশে ২২ জেলার ৩৬ উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে যেসব কর্মকর্তা ছিলেন, বদলি হলেও তারাও আসছেন তদন্তের আওতায়। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের এ প্রকল্পে দুর্নীতি ও গাফিলতির অভিযোগে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ পাঁচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এবার ওএসডি করেছে সরকার।

ফেসবুকে লাইক দিন