প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো মানে তাঁর কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া নয়: আল্লামা আহমদ শফী

ইমান২৪.কম: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন কওমি সনদের স্বীকৃতির বিল পাশ হওয়ায় বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানানো মানে সরকারের কাছে কওমী উলামায়ে কেরামদেরকে বিক্রি করে দেয়া বা নীতি ও আদর্শচ্যুত হওয়া নয়।

শনিবার (১৩ অক্টোবর) হাটহাজারী পার্বতী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম। কওমী সনদের স্বীকৃতি আইন পাস হওয়ায় চট্টগ্রামের আল আমিন সংস্থা এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আল্লামা শফী বলেন, আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন, কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের (তাকমীল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রী (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবী) সমমান প্রদানের দাবীটি দির্ঘদিনের। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম উক্ত দাবী আদায়ের জন্য বহু আন্দোলন করেছেন। আমি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য রেখে এই সনদের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ সফলও হয়েছি। এইজন্য আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি ও সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি কারণ, সরকারের স্বদিচ্ছা ও আন্তরিকতা না থাকলে এ ধরণের ব্যাতিক্রম ও অভিনব বিল পাশ করা কখনও সম্ভবপর হতো না।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা ও সাম্প্রতিক সময়ে নানা অপপ্রচারের জবাবে তিনি বলেন, সনদের স্বীকৃতির বিল সংসদে পাশ হওয়ার পর থেকে আমার বিরুদ্ধে একটি কওমীবিদ্বেষী ও সার্থান্বেষী মহল আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে এবং স্যোসাল মিডিয়ায় বিশেষ কিছু লোক নানা অপপ্রচার, অশ্লীল বাক্য, কটুক্তি করেই চলছে। অনেকে বলছে আমি নাকি আওয়ামীলীগ হয়ে গেছি। বিগত ১লা অক্টোবর হাটহাজারী মাদরাসায় চট্টগ্রাম বেফাক কতৃক আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্পষ্ট বলেছিলাম, আমি আওয়ামীলীগ হয়ে যাইনি। যারা আমাকে আওয়ামীলীগ বলছেন তারা মিথ্যাবাদী।

তিনি আরও বলেন, কওমী মাদরাসা হলো জাতীয় মাদরাসা। দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগীতায় এসব মাদরাসা পরিচালিত হয়। আমার কোন রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। প্রচলিত কোন রাজনীতির সাথে আমি জড়িত নই। তাই আমার বক্তব্যকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না, ভুল ব্যাখ্যা করবেন না। আমাদেরকে যারা ভালোবাসে, যারা আমাদের কাছে আসে, তাদের দ্বীনের কথা বলা, নসীহত করা এবং তাদের জন্য দোয়া করা আলেম হিসেবে আমাদের কর্তব্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এম পি, হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মাহবুবুল আলম, হাটহাজারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনীরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাদরাসার পরিচালক, সাংবাদিক ও ছাত্রবৃন্দ।

আরও পড়ুন: সবার আগে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল হওয়া উচিত ছিল!

নির্বাচনের সময় দেশে থাকতে চান না সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দুই শতাধিক কর্মকর্তা

ফেসবুকে লাইক দিন