প্রতিহিংসামূলক নির্বাচন, লঙ্ঘিত হয়েছে মানবাধিকার, উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ : আল-জাজিরার প্রতিবেদন

ইমান২৪.কম: বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচনকালীন বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনসহ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েক ডজন হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। ‘আল-জাজিরা’

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালীন কিংবা এর আগে ও পরে যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন (ওএইচসিআর) এক বিবৃতিতে দেয়।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকার উদ্বেগজনক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে অনেকের সঙ্গে বিশেষ করে বিরোধী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে শারীরিক হামলাসহ দুর্ব্যবহার, নির্বিচারে গ্রেফতার, হয়রানি ও মামলা দেওয়া হয়েছে। যা সত্যিই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত বহন করে।’

শামদাসানি দ্রুত উন্মুক্ত তদন্ত এবং আরও বিপর্যয় প্রতিরোধ করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি বাংলাদেশের বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কমপক্ষে দুইজন সাংবাদিককে ভোটের দিন গ্রেফতার করা হয়েছে। যা স্বাধীন গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার পথে বড় বাধা। তাছাড়া গত ১০ ডিসেম্বর ৫৪টি সংবাদবিষয়ক ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

‘প্রতিবেদনগুলি নির্দেশ করে যে, ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের দ্বারা আচমকা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংস আক্রমণ ও ভীতিপ্রদর্শণ করা হয়েছে, মাঝে মাঝে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার পরেও এমনকি তাদেরকে নিয়ে এমন সহিংস হামলা চলেছে’ বলে যুক্ত করেন রবিনা শামসাদানি।

হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ গত রবিবারের (৩০ ডিসেম্বর) সংসদ নির্বাচনে ৯৬ শতাংশ আসন পেয়ে জয়লাভ করেন। আওয়ামী নেতৃত্বাধীন মহাজোট মোট ২৮৮ টি আসনে বিজয়ী হয় যখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পায় মাত্র ৬টি আসন। হাসিনা টানা ৩য়বারের মতো এবং রেকর্ড মোট ৪বারের মতো সরকার গঠন করতে প্রস্তুত।

প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া, যিনি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির দায়ে দফায় দফায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাবাসে রয়েছেন যা তার সমর্থকরা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য ডিপার্টমেন্টগুলোর বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও আইন অমান্যের ঘটনাকে অগ্রাহ্য করার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের আগেই দেশটির সরকার একটি নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছিল। যা বাকস্বাধীনতা ও মিডিয়া স্বাধীনতা খর্ব করে বলে উদ্বগ প্রকাশ করেছিল।

নির্বাচনে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলা

শামদাসানি উল্লেখ করেছেন যে,গণমাধ্যমকর্মীদের ভয় দেখানো, আহত করা এবং তাদের সম্পত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করাসহ অন্যান্য বাধা যা নির্বাচনের স্বাধীন ও সর্বজনীন নির্বাচনি প্রতিবেদন তৈরিকে ব্যহত করেছে। নির্বাচনে তাদের প্রতিবেদনের জন্য ইতোমধ্যেই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অধীনে কমপক্ষে দুইজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

‘১০ ই ডিসেম্বর থেকে অন্তত ৫৪ টি সংবাদমাধ্যম এবং অন্যান্য ওয়েবসাইট প্রচার বন্ধ করা হয়েছিল এবং নির্বাচনকালীন অস্থায়ীভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ ছিল। ইন্টারনেটের গতিকে মন্থর করা হয়েছিল যা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করেছে’, বলেছেন শামদাসানি।

সম্প্রতি পুনঃনির্বাচনে আহ্বান জানানো শান্তিপূর্ণ গণ বিক্ষোভে পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো আইনের অধীনে মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের অভিযোগ রয়েছে। ‘এই আইনসহ বিধিবদ্ধ আইন সংস্কার করা উচিত যাতে মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক এবং জনসাধারণের সকল সদস্যদের অভিব্যক্তি প্রকাশের স্বাধীনতার চর্চা করা হয়।’ বলে জানান শামদাসানি।

ভোটাধিকার:

নিউইয়র্ক ভিত্তিক দল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) অনিয়মের অভিযোগে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং জাতিসংঘ সবাই-ই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এইচআরডাব্লিউ এর এশিয়া ডিরেক্টর ব্র্যাড অ্যাডামস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের বিদেশি বন্ধুদের মনে রাখা উচিত যে, নির্বাচন শুধুমাত্র ভোটারদের অধিকার সম্পর্কে, ক্ষমতায় যারা যাবেন তাদের অধিকার সম্পর্কে নয়।’

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে, হাসিনার আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সদস্য কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এক বিরোধী জোট গঠন করেছিলেন। ড. কামাল শেখ হাসিনার বাবা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। কামাল হোসেনের ছোট পার্টি, গণফোরামের তেমন সমর্থন নেই। অন্যদিকে, হাসিনা ও খালেদা জিয়ার দলের ব্যাপক সমর্থণ রয়েছে।

নির্বাচনের একদিন পর, বিদেশি সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে একটি ব্রিফিংয়ের সময়, হাসিনা বিরোধীদের ওপর ব্যাপকভাবে চড়াও হন। তিনি বলেন, ‘আপনি যে বিরোধী দলকে দেখেন, তারা কে? প্রধান পার্টি, বিএনপি! এটি একটি সামরিক স্বৈরতন্ত্রের (বেগম খালেদা জিয়ার স্বামী, জিয়াউর রহমান) মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যারা এই দেশে সামরিক আইন চালু করেছিল। জনগণের জন্য কোনো সাংবিধানিক অধিকার ছিল না।’

তিনি ভোটের ন্যায্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন খারিজ করে বলেন, এটি একটি ‘খুব শান্তিপূর্ণ নির্বাচন’ ছিল।

আরও পড়ুন:  আ. লীগ গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে : মির্জা ফখরুল

দাবি এক হলে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বসতেই পারি: চরমোনাই পীর

আমাকেও মারা হয়েছে, তার বিচার পরে, আগে বোনের বিচার চাই: হিরো আলম

ইসলামি দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ তৈরির আহবান জানালেন মাওলানা মামুনুল হক

ঝিনাইদহে যুবককে উল্টো করে ঝুলিয়ে আ.লীগ নেতার অমানবিক নির্যাতন; ভিডিও ভাইরাল

নৌকায় ভোট না দেয়ায় খুন-ধর্ষণ হতে হচ্ছে; ন্যূনতম লজ্জা থাকলে এভাবে সরকার গঠন করা যায় না: বামজোট

ফেসবুকে লাইক দিন