পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ, মাওলানা মামুনুল হককে মাহফিলে বাধা দেবে না

ইমান২৪.কম: বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্কের জেরে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে চট্টগ্রামে প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের নির্দেশে সেই অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের।

দুপুরে নেওয়া অবস্থান থেকে রাতেই পিছু হটতে হল সরকারি দলের এই রাজনৈতিক সংগঠনকে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে মাওলানা মামুনুল হককে অত্যন্ত উস্কানিমূলক ভাষায় যে কোনো মূল্যে চট্টগ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হবে— এমন হুংকার ছেড়েছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তবে এদিন রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ছাত্রলীগ ছাড়াও যুবলীগের পক্ষ থেকে মামুনুল হককে প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী হাই স্কুল মাঠে একটি তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মাওলানা মামুনুল হকের।

আকাশপথে চট্টগ্রাম এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে হাটহাজারী যাবেন— এমনটিও জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে। তবে জানা গেছে, বিশৃঙ্খলা এড়াতে চট্টগ্রাম না যাওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। যে কোনো মূল্যে মাওলানা মামুনুল হকের এই মাহফিল ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে এই লক্ষ্যে শুক্রবার চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছিল চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের।

তবে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে মহানগর ও জেলা ইউনিটের নেতাদের সব কর্মসূচি স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের যাত্রাপথে কোনোরকম বিঘ্ন না ঘটানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে কড়াভাবে। সূত্র বলছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশই পালন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা।

সন্ধ্যায় নেতাদের ডেকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও মাহফিল ঠেকানোর যে কোনো চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের একজন শীর্ষ নেতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই নেতা বলেন, ‘আমরা তিনটি ইউনিট থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।

কিন্তু আমাদের সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে সব রকমের কর্মসূচি স্থগিত করতে বলা হয়েছে। আপাতত আমরা সেটাই করবো।’ এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়, মামুনুল হক চট্টগ্রামের মাটি ব্যবহার করে কোথাও যেতে চাইলে তা যেকোন মূল্যে প্রতিহত করা হবে।

ভাস্কর্য অপসারণ বিতর্কে চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে দ্বৈরথে জড়ানোর পর চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবহার করে মামুনুল হকের হাটহাজারী সংবর্ধনা নিতে যাওয়াকে নিজেদের প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে নেয় মহিউদ্দিন অনুসারীরা। তাই মাওলানা মামুনুল হককে প্রতিরোধ করতে চট্টগ্রামের সবর্স্তরের ছাত্র ও যুব ঐক্য পরিষদের ব্যানারে প্রেসক্লাব চত্বরে ওই সমাবেশের ডাক দেয় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

ফেসবুকে লাইক দিন