পাথর অপসারণ করতে গিয়ে রোগীর দুটো কিডনিই কেটে ফেললেন চিকিৎসক

ইমান২৪.কম: পাথর অপসারণ করতে গিয়ে এক রোগীর দুটো কিডনিই কেটে ফেললেন চিকিৎসকরা। অভিযুক্ত চিকিৎসক হাবিবুর রহমান দুলাল দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে কিডনির অবস্থান তারা বুঝতে পারেননি। ঘটনাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের। হাসপাতালের আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় এখন রওশন আরার। অস্ত্রোপচারে মায়ের দুই কিডনি হারানোয় ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদার। কিডনি জটিলতার কারণে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিএসএমএমইউ’তে হাসপাতালে চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরা’র অস্ত্রোপচার করেন কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের প্রধান হাবিবুর রহমান দুলাল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর রোগীর দেহে জটিলতা সৃষ্টি হলে রফিক শিকদার নিশ্চিত হন তার মায়ের দুটো কিডনি ফেলে দেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে (রোববার ২৮ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন এর চলচ্চিত্র সমিতিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদার। এসময় তিনি অভিযোগ করেন তার মায়ের কিডনি অন্যকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া তার মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি। চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদার বলেন, ‘আনুমানিক রাত ১২ টার দিকে কর্তব্যরত ডাক্তার আমাকে বলেন যে, অপারেশনের পর থেকে আপনার মায়ের ডান পাশের কিডনিটি কাজ করেছে না। দ্রুত উনাকে আইসিইউতে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। সঙ্গে তিনি এটাও বলেন, আমাদের হাসপাতালে আইসিইউ খালি নেই। কোন প্রাইভেট হাসপাতালের হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।’

এ দিকে আইন পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমে ২৯ সেপ্টেম্বর রফিক সিকদার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মাধ্যমে অভিযুক্ত চিকিৎসক হাবিবুর রহমানকে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। এ বিষয়ে রফিক শিকদার বলেন, আইনি নোটিশ পাঠানোর পর অভিযুক্ত চিকিৎসক দুলাল দোষ স্বীকার করে কিডনি প্রতিস্থাপনের সব খরচবহনসহ কিডনি দাতাকে আট লাখ টাকা দিতে সম্মত হন। এনিয়ে স্ট্যাম্পে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়। কিন্তু এখন গড়িমসি করছেন। রফিক শিকদার বলেন, আমার মায়ের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় কৃর্তপক্ষ তড়িগড়ি করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলো। এই তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য হচ্ছে অভিযুক্ত প্রফেসর হাবিবুর রহমান দুলাল। যিনি অভিযুক্ত তিনি তদন্ত কমিটিতে কী করে থাকেন?

আর এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও মুঠোফোনে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। অভিযুক্ত ডাক্তার হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘অভিযোগ-তো মিথ্যা নয়, আমরা বললাম এটা আমরা বাম দিকে অপারেশন করেছি, বাম কিডনি ফেলার জন্য এটা সিদ্ধান্ত ছিলো। জন্মগতভাবে বাম কিডনির সমস্যা ছিল, এর সঙ্গে ডান দিকের কিডনি এমনভাবে প্যাঁচানো ছিল যে এবং ওই অবস্থা ব্লিডিং হচ্ছিল, যা কোনভাবে বুঝা সম্ভব হচ্ছিল না, ফলে অপারেশনের সময় ডান কিডনিটাও ওঠে চলে আসে। এদিকে ঘটনার পর হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ও ছয় সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম পৌঁছেই মাজার জিয়ারত করলেন ড. কামাল-ফখরুলের

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ফেসবুকে লাইক দিন