পাকিস্তানের লোক ড. কামাল : নৌপরিবহন মন্ত্রী

ইমান২৪.কম: জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগ ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘ড. কামালের কথা-কাজের মিল নেই। তার ভূমিকা সবসময় রহস্যজনক। তিনি আসলে পাকিস্তানেরই লোক।’ রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সারাবাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তিনি যাবেন না।

এখন দেখা যাচ্ছে, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে ঐক্য করেছেন তিনি। বিএনপি তো জামায়াতকে জোট থেকে বাদ দেয়নি। ড. কামাল হোসেন জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। বাংলাদেশের জন্য ড. কামাল হোসেনের কোনো দরদ নেই। তার ভূমিকা দেখে আমিসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল শক্তি বিস্মিত হয়েছি। বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে চলছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির লড়াই।’ সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এবং ২২ সেপ্টেম্বর সমাবেবেশ সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্য নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী শাজাহান খান।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন এমনি একজন ব্যক্তি; যিনি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর একটি শোক জানাননি। এমনকি তিনি হত্যার প্রতিবাদে একটি বিবৃতিও দেননি। অথচ তিনি ওই সময় বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার ওই সময়ের ভূমিকায় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হতাশাগ্রস্ত হয়েছিলেন।’ মন্ত্রী বলেন, ‘তার ভূমিকা সবসময় রহস্যজনক। তিনি কে? এটিই এখন প্রশ্ন জাগে সবার মাঝে। ড. কামাল হোসেন আসলে পাকিস্তানেরই লোক।’

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট গঠন হয়েছে। প্রকৃত অর্থে তার নিজস্ব কোনো শক্তি নেই। তার নির্ভর করতে হয় আগুন সন্ত্রাসীদের ওপর।’ তিনি বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, ‘এই ফখরুল ইসলাম আগে বলেছেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশ বিক্রি হয়ে যাবে। স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। এ যেন ভূতের মুখে রাম নাম। স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বলছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে দেশ বিক্রি হয়ে যাবে, স্বাধীনতা বিপন্ন হবে।

আমি মনে করি, ফখরুল সাহেবের জবাব জনগণ দেবে।’ নৌপরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। তবে কেউ যদি গঠনমূলক আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় তার জবাব জনগণ কঠিনভাবে দেবে। আমি দেশবাসীকে আহ্বান জানাব, আপনারা আপনাদের দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দেখে সবকিছু বিবেচনা করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে জোট মহাজোট, মোর্চাসহ বিভিন্ন ফ্রন্ট গঠন হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে থেকে ৩০ লাখ মা-বোনের ইজ্জত, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে জোট করে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঠেকানো যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে চলছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির লড়াই। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। অপরদিকে জঙ্গি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। আমার বিশ্বাস, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি কখনও বিরোধী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করবে না।’

আরও সংবাদঃ আপত্তি উপেক্ষা করেই সংসদে পাস হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল

সংসদে কওমি সনদের বিল পাশ করায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব

ফেসবুকে লাইক দিন