পাকিস্তানের সংসদে দাড়িয়ে কাশ্মির বিষয়ে যা বললেন ইমরান খান

ইমান২৪.কম: ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাম্মীরকে সংবিধানের মাধ্যমে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর এখন ওই অঞ্চলে ভারত সরকার ধ্বংসযঞ্জ চালাবে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এমন সিদ্ধান্ত ভারতকে মুসলিমশুন্য করার চক্রান্ত বলেও মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়ে সংসদের বিশেষ

অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। ইমরান খান বলেন, এখন তারা (ভারত) জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের ওপর আরও কঠোর ধ্বংসযঞ্জ চালাবে। তারা সেখানকার জনগণের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে তা

আড়াল করার চেষ্টা করবে। তারা এসব করে আবার আমাদের ওপর দোষ চাপাবে। ভারত আমাদের ওপর আঘাতও হানতে পারে; তবে আমরাও এর প্রতিঘাত করব। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার তো ভয় হচ্ছে;

তারা কাশ্মীরের জনগণের ওপর জাতিগত নিধন চালাতে পারে, সবাইকে উচ্ছেদ করে দিতে পারে। পুলাওয়ামার মতো কাণ্ড ঘটতে যাচ্ছে আবার। এটা যে ঘটবে; তা আমি ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারি। ভারত সরকারের ৩৭০

ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, কাশ্মীরে যা ঘটেছে; তা-ই দেশটির সরকারের আদর্শ। তারা বর্ণবাদী আদর্শের ধারক। তারা তাদের দেশ এবং আন্তর্জাতিক আইন

ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, কাশ্মীরে কী হচ্ছে তা বিশ্বনেতাদের জানাতে চাই। সেখানে কী ঘটছে সে সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায় এবং সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কী হচ্ছে তা সবাইকে জানাব।

এ সময় ভারতের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। ইমরান খান বলেন, হঠাৎ করেই ভারত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিষয়টি এমন নয়। বরং এটি নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল।

যা মূলত আরএসএসের দলীয় মিশন। তিনি বলেন, যখন পুলওয়ামা হামলা হয়েছিল তখনও পাকিস্তানকে দোষারোপ করেছিল ভারত; এ অভিযোগের সত্যতা না থাকা সত্ত্বেও বারংবার পাকিস্তানের দিকেই অভিযোগের

আঙুল তুলেছে মোদি সরকার। কিন্তু তা সত্ত্বেও উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে ফেরত পাঠিয়েছি আমরা। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের মতে ভারত শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাসস্থান ও এটাই ভারতের শাসক

সরকারের রাজনৈতিক মতাদর্শ, এটাই আরএসএস চালিত এক দলের মতাদর্শ। ভারতে এ মুহূর্তে যেমন পরিস্থিতি সেখানে প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক কোনোভাবেই সমান নন। নিজের বিরুদ্ধে আনিত বিরোধীদের অভিযোগ

প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাশ্মির ইস্যুতে আমি সব ধরণের উদ্যোগ করতে প্রস্তুত। সম্ভাব্য সব ধরণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের সচিব যৌথ এই অধিবেশনের আলোচ্যসূচি প্রকাশ করেন।

আলোচ্যসূচিতে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা। বিরোধী সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ করতে থাকায় সংসদের অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মূলতবি ঘোষণা

করেন স্পিকার। উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পর জম্মু-কাশ্মিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত

করতে রাজ্যসভায় বিল পাস করেছে বিজেপি সরকার। জম্মু-কাশ্মির পুনর্গঠন বিল ২০১৯ নামের এ বিলের আওতায় জম্মু-কাশ্মিরকে দু’ভাগ করে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিণত করার কথা বলা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখ হবে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।

আরো পড়ুন>> কাশ্মীরকে ‘বিশেষ মর্যাদা’ দেয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে ভারতের মোদি সরকার গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে। অনতিবিলম্বে কাশ্মীরের উপর ভারতের সকল হস্তক্ষেপ বন্ধ

করতে হবে এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকার দিতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা এবং ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধের দাবীতে ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগর আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে

সভাপতির বক্তব্যে মহানগর সভাপতি আফজাল হোসাইন কামিল এসব কথা বলেন। ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত

ছিলেন সিলেট পূর্বজেলা সভাপতি মুহাম্মদ জারির হোসাইন, পশ্চিম জেলা সভাপতি জাকির হোসেন সাঈদ, সাবেক সভাপতি আহমদ মাহফুজ আদনান, সৈয়দ আদনান জাবির, সুনামগঞ্জ জেলা সাবেক সভাপতি বশির

উদ্দিন, শাবিপ্রবির সেক্রেটারি জাকারিয়া হোসেন জাকির। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, মহানগর প্রশিক্ষণ সম্পাদক আব্দুর রব, বায়তুলমাল ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইফুল

ইসলাম জলিল, অফিস ও প্রচার সম্পাদক লিটন আহমদ জুম্মান, পূর্ব জেলার বায়তুলমাল ও অফিস সম্পাদক এনামুল ইসলাম, সৈয়দ সানাউল হক, নাজমুল ইসলাম, ইমদাদুল হক ইমরান, রায়হান হোসেন, আমিরুল ইসলাম আমিন, সাদিকুর রাহমান, মুহিবুর রহমান রায়হান প্রমূখ।

ইমান২৪/এ/আর

ফেসবুকে লাইক দিন