পাকিস্তানের ইমরান সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ

ইমান২৪.কম: পাকিস্তানের পরিবহন খাতে উন্নয়ন নিয়ে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোওয়ারে নির্মাণাধীন পাকিস্তানের অন্যতম বড় প্রকল্প ‘বাস র‌্যাপিড ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টে’ ২৭০ কোটি পাকিস্তানি রুপি অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশটির অডিটর জেনারেলের (এজিপি) একটি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর এই দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির নকশায় পরিবর্তন আনার কারণে এর ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রজেক্টটি চার হাজার ৯০০ কোটি রুপিতে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এর ব্যয় দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৬০০ কোটি রুপি।

তবে অনিয়মের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পিটিআই’র প্রাদেশিক সরকার। খবর সামা টিভি ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের। পাকিস্তানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সরকারি কর্মকর্তাদের অনিয়ম মোকাবেলায় নতুন একটি নিয়মও চালু করছে তার সরকার।

এতে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও দুর্নীতি করলে শাস্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই (শুক্রবার) এক ঘোষণায় হুশিয়ারি দিয়ে ইমরান খান বলেছেন, দুর্নীতির প্রমাণ পেলে শাস্তি হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে চাকরিচ্যুত করা হবে। এ ঘোষণার তিনদিন না যেতেই তার সরকারের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠল।

ইমরান খান সরকারের এ দুর্নীতি নিয়ে সোমবার প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রভাবশালী চ্যানেল সামা টিভি। অডিটর জেনারেলের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে চ্যানেলটি জানায়, চলমান অন্যতম মেগা প্রজেক্ট পেশোয়ারের বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রান্সপোর্ট) প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। নির্মাণ কাজের ধাপে ধাপে হয়েছে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেন।

রিপোর্ট মতে, প্রকল্পের কাজ শেষ অতিরিক্ত ১৭ বিলিয়ন তথা এক হাজার ৭০০ কোটি রুপি অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের ব্যাপারে রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটের তহবিল থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার অতিরিক্ত মুখ্য সচিবসহ একাধিক কর্মকর্তাকে অবৈধভাবে এক কোটি ৭৭ কোটি রুপি দেয়া হয়েছে।

এদিকে ইমরানের পিটিআই সরকারের বিরুদ্ধে এমন বড় দুর্নীতির খবর প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বিরোধী রাজনীতিকরা। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও প্রকল্পের কাজ তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) মুখপাত্র ইখতিয়ার ওয়ালি।

তবে দুর্নীতির এই খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন তেহরিক-ই ইনসাফের প্রাদেশিক মন্ত্রী শওকত ইউসুফজাই। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করা হবে। প্রকল্পে কারও বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সরকার।

পেশোয়ারের বিআরটি প্রজেক্টটি পাকিস্তানের বেশির ভাগ বড় প্রকল্পের মতোই এর নির্মাণের কাজ করছে চীনের একটি কোম্পানি (চায়না রেলওয়ে টুয়েনটিফাস্ট ব্যুরো গ্রুপ)। প্রায় সাত হাজার কোটি রুপি ব্যয়ে ২৭.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে থাকছে ৩১টি স্টেশন ও ৭টি ফিডার রুট যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬২ কিলোমিটার।

ফেসবুকে লাইক দিন