পাঁচ চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে জাতীয় নির্বাচনে পাকিস্তান

আসন্ন ২৫ জুলাই পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বড় পাঁচ চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো প্রচারণা চালাচ্ছে। জনসংখ্যা সমস্যা থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ- এই সংকটগুলোই পাকিস্তানের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ : গত কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে পাক সেনাবাহিনী। এতে কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন সামনে রেখে সন্ত্রাসী হামলা আবার মাথাচাড়া দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদের মূল কারণগুলোয় হাত দিচ্ছে না পাকিস্তান সরকার। আর এ কারণেই মাঝে মাঝেই ভয়াবহ সব হামলা চালাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রার্থীদের লক্ষ্য সিরিজ আত্মঘাতী হামলা হয়েছে। এ সব হামলায় কয়েকজন প্রার্থীসহ নিহত হয়েছে প্রায় ১৭৫ জন।

অর্থনীতি : আমদানিনির্ভর দেশ পাকিস্তান। কিন্তু দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেই। আবার ডলারের বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়ন জোরদার হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমদানি মূল্য পরিশোধে নগদ অর্থ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গুঞ্জন চলছে, আমদানি ব্যয় মিটাতে খুব শিগগিরই আইএমএফের কাছে ধরনা দিতে হবে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি : ধর্মীয়ভাবে অতি রক্ষণশীল দেশ পাকিস্তান। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পরিবার ছোট রাখা প্রভৃতি বিষয় ভালোভাবে দেখে না তারা। ফলে এশিয়ার উচ্চ জন্মহারের দেশগুলোর তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে দেশটি।

নারীপ্রতি গড়ে তিনটি ছেলেমেয়ে। বিশ্বব্যাংক ও দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান মতে, ১৯৬০ সালের পর থেকে জনসংখ্যা পাঁচগুণ হয়েছে। গত বছর প্রকাশিত দেশটির আদমশুমারি অনুযায়ী, বর্তমানে জনসংখ্যা ২০ কোটি ৭০ লাখ।

নিরাপদ পানির ঘাটতি : খরাপ্রবণ পাকিস্তানে পানির চরম অভাব। সরকারি হিসেবে বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল নাগাদ ‘পানির চরম ঘাটতি’ দেখা দেবে দেশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্তৃপক্ষ শিগগিরই ব্যবস্থা না নিলে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে দেশ।

সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক : স্বাধীনতার পর গত ৭১ বছরের অর্ধেক সময় ধরে সেনা শাসনের অধীনে ছিল পাকিস্তান। সেনাবাহিনী ও গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর মধ্যে সবসময় একটা বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ ও দেশের অগ্রগতিতে এটাকে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফেসবুকে লাইক দিন